গ্রিন কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলো মার্কিন প্রশাসন
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অধিকাংশ অভিবাসীকে দেশ ছাড়তে হবে না বলে স্পষ্ট করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। গত সপ্তাহে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করার বিষয়ে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির পর সংস্থাটি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।

ডিএইচএস জানিয়েছে, এটি কোনো নতুন বা ব্যাপক নীতিগত পরিবর্তন নয়। বরং কোনো আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তারা পৃথকভাবে প্রতিটি মামলার ভিত্তিতে নেবেন।
গত সপ্তাহে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এমন একটি বার্তা দেয়, যাতে ধারণা তৈরি হয় যে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের অধিকাংশকেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের অনুমোদনের অপেক্ষা করতে পারেন।
ডিএইচএসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা আগে থেকেই ছিল। নতুন করে কেবল তাদের সেই ক্ষমতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বা যাদের বিষয়ে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রয়োগ হতে পারে।
তবে কারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় উদ্বেগ কাটেনি। অনেক অভিবাসন আইনজীবী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতে আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন এবং নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে তাদের কোনো বাধা আছে কি না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ব্যাখ্যা কিছুটা স্বস্তি দিলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হয়নি। কারণ, নীতিটির বাস্তব প্রয়োগ কেমন হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক বেঞ্জামিন জনসন বলেন, নীতির প্রকৃত পরিধি পরিষ্কার না হলে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা সারাহ পিয়ার্সের মতে, ব্যাপক জনসমালোচনার মুখেই প্রশাসন নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও। তাদের আশঙ্কা, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও প্রযুক্তি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকেন। যদি তাদের বিদেশে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে কনস্যুলেটের দীর্ঘসূত্রতা ও ভিসা জটিলতার কারণে কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পারিবারিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা ব্যক্তিদের ওপর। অনেকেই অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন করেন।
যদি এসব আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়, তাহলে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ হারাতে পারেন।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জন করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএইচএসের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিক আতঙ্ক কিছুটা কমালেও অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে নীতিটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.