প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাত
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পরোক্ষ নয়, বরং সরাসরি অংশ নিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)—এমন দাবি করে নতুন এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সময়েও সেই অভিযান অব্যাহত ছিল।
বিষয়টি সত্য হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক ভূরাজনীতিতে এটি একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেবে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমিরাত। এসব অভিযানে ইসরায়েল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এলাকা, লাভান দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। কিছু হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকেও সক্রিয় হতে হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে তেহরান বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ফুজাইরাহর তেল শিল্পাঞ্চল, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো একাধিকবার হামলার মুখে পড়ে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো বড় ধরনের চাপে পড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের জ্বালানি ও বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ফলে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুতই দেশটির আর্থিক খাতে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের প্রশ্নে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়।
রিয়াদ শুরু থেকেই সংঘাত বিস্তার নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল। সৌদি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, আমিরাতের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
এ নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সৌদি আরব। ফলে দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে বিদ্যমান প্রতিযোগিতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
যুদ্ধের প্রভাব আমিরাতের অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিমান চলাচল ব্যাহত হয়, পর্যটন খাত ক্ষতির মুখে পড়ে এবং আবাসন বাজারে মন্দার লক্ষণ দেখা দেয়।
বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও ধাক্কা লাগে। শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের মূলধন বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে কর্মী ছাঁটাই ও অবৈতনিক ছুটির পথ বেছে নেয়।
ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতির মুখে সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাতের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পথে এগোতে উৎসাহিত করেছেন, তাদের মধ্যে আমিরাতের প্রেসিডেন্টও ছিলেন।
তবে একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি সামরিক সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে আরব আমিরাত। তবে ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ দেশটির জন্য নতুন ধরনের কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আবুধাবি কি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা জোটকে আরও শক্তিশালী করবে, নাকি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ক্ষতির কথা বিবেচনা করে কূটনৈতিক সমঝোতার পথেই বেশি গুরুত্ব দেবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনীতিতে এই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.