বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মরদেহে ইসরায়েলি সেনাদের প্রশিক্ষণ? যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে দান করা মরদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব মরদেহের কিছু মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা হয়েছে।

বিষয়টি সামনে আসার পর দেহদাতাদের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং চিকিৎসা নৈতিকতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন—মৃত্যুর পর দেহ দানকারীরা কি জানতেন, তাদের মরদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহার হতে পারে?
সম্প্রতি আল-জাজিরার অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম এজে+ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ অস্ত্রোপচার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মরদেহ সরবরাহ করে আসছে। সেই কর্মসূচিতে ইসরায়েলি সামরিক সার্জনরাও অংশ নিয়েছেন বলে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় দান করা মরদেহগুলোকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্তুত করা হতো, যাতে সেগুলো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে আহত মানুষের শরীরের মতো আচরণ করে। ‘পারফিউশন’ নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে মরদেহকে জীবন্ত দেহের মতো প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলা হয়।
এরপর প্রশিক্ষণার্থীদের গুলিবিদ্ধ, বিস্ফোরণে আহত বা গুরুতর রক্তক্ষরণে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অনুশীলন করানো হয়। মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি অস্ত্রোপচার পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি।
২০২০ সালে প্রকাশিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাপত্রেও এমন প্রশিক্ষণের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকদের জন্য পরিচালিত চার দিনের একটি যুদ্ধকালীন সার্জারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের যৌথ অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসসি) মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য অন্তত ৮৯টি মরদেহ সরবরাহ করেছে।
অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) থেকেও বিপুল সংখ্যক মরদেহ এই কর্মসূচিতে ব্যবহারের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, এগুলো সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য নয়; বরং চিকিৎসা দক্ষতা উন্নয়নের শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণের অংশ।
এই তথ্য প্রকাশের পর অনেক দেহদাতার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ১০১ বছর বয়সে মারা যাওয়া সাবেক ফ্লাইট নার্স জ্যানেট ভলপিনের মেয়ে মিরিয়াম ভলপিন জানান, তার মা মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে নিজের দেহ দান করেছিলেন। কিন্তু সেটি সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তিনি উদ্বিগ্ন।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন পরিবারের সদস্য। তাদের অভিযোগ, দেহদানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কখনো স্পষ্ট করে জানায়নি যে মরদেহ সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বা বিদেশি সামরিক কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
চিকিৎসা নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল প্রশ্ন হচ্ছে ‘ইনফর্মড কনসেন্ট’ বা অবহিত সম্মতি। দেহদাতারা যদি জানতেন তাদের মরদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে, তাহলে তারা একই সিদ্ধান্ত নিতেন কি না—সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
কিছু সম্ভাব্য দাতা ইতোমধ্যে নিজেদের দেহদানের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউএসসি ও ইউসিএসডি উভয়ই দাবি করেছে, তাদের কর্মসূচি শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক। সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও সেটিকে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনার সহায়তা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে তাদের বক্তব্য।
তবে বিতর্কের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ সম্প্রতি তাদের দেহদানসংক্রান্ত তথ্যপত্রে নতুন ব্যাখ্যা যুক্ত করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, দান করা মরদেহ অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হতে পারে এবং সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণেও ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দানকৃত মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, বিষয়টি শুধু চিকিৎসা প্রশিক্ষণের নয়; বরং দেহদাতাদের সম্মতি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বচ্ছতা এবং মানবদেহ ব্যবহারের নৈতিক সীমা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে নিয়ে এসেছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.