১৯৬৭ সালের যুদ্ধের ৫৯ বছর পরও গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেই ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের ৫৯তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার ফিলিস্তিনিরা দিনটিকে আরবিতে ‘নাকসা’ বা বিপর্যয় হিসেবে স্মরণ করেন।

ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট অংশ হিসেবে পরিচিত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকার পাশাপাশি মিশরের সিনাই উপত্যকা এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি ইসরায়েলি দখলের মাধ্যমে ১৯৬৭ সালের জুনের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের পর থেকে এবারের বার্ষিকীতে তারা সবচেয়ে ভয়াবহ সময় পার করছেন। কারণ ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক তৎপরতা ও অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং পুরো উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
ফিলিস্তিন সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১ হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩৩ হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।
লেবাননের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে ৩ হাজার ৫১৬ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন।
১৯৬৭ সালের ৫ জুন এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই দিন ইসরায়েল মিশরে আকস্মিক বিমান হামলা চালালে অন্যান্য আরব সীমান্তেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ছয় দিন পর ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, সিনাই উপত্যকা ও গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ নিলে যুদ্ধের অবসান হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে মিশর-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির অধীনে ইসরায়েল সিনাই থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে তারা পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমি দখল করে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে অস্বীকৃত এক পদক্ষেপে পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
এই যুদ্ধের কারণে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে আনুমানিক ৩ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। পাশাপাশি অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে বৃহৎ পরিসরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপন প্রকল্পের সূচনা হয়।
ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে ১৫১টি বসতি এবং ৩৫০টি ফাঁড়িসহ মোট ৬৪৫টি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি ও সামরিক ঘাঁটি ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দখলদারদের জনসংখ্যা ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬৭-তে পৌঁছায়।
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসেফ আনাদোলুকে জানান, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের চলমান সর্বাত্মক আগ্রাসনের মধ্যেই এবারের বার্ষিকী এসেছে।
তিনি বলেন, ‘১৯৪৮ সালের নাকবার পর ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং তাদের জমি বাজেয়াপ্ত করার আরেকটি পর্যায় ছিল ১৯৬৭ সালের জুনের যুদ্ধ।’
তিনি আরও জানান, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি নীতিগুলো মূলত অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, জমি বাজেয়াপ্ত করা এবং নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। তবে তারা ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকার আদায়ের দৃঢ় সংকল্প ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে।
আবু ইউসেফ উল্লেখ করেন, গাজার যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নষ্ট করার অব্যাহত চেষ্টার কারণে ফিলিস্তিনিরা এখন নজিরবিহীন বিপদের সম্মুখীন।
তিনি আরও জানান, কয়েক দশকের সংঘাত ও দখলদারিত্ব সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা যে ব্যর্থ হয়েছে, তা নাকবা ও নাকসার বার্ষিক স্মরণোৎসবের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.