আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অনুরোধ করলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা করতেও দেশটি প্রস্তুত রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম জেটিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এসব কথা জানান।

হরমুজ প্রণালীর মাইন অপসারণে কাজ করতে চায় তুরস্ক
হাকান ফিদান

সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ‘পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো চুক্তি হলে বা মাইন অপসারণ প্রক্রিয়ায় আমাদের অবদান রাখতে বলা হলে আমরা সানন্দে তা করব।’ তিনি জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ যেকোনো সংঘাত নিরসনে তুরস্ক ধারাবাহিক নীতি মেনে চলে। বিবাদমান পক্ষগুলো কোনো সমাধানে একমত হলে এবং তুরস্ক যদি মনে করে তারা সেই সমাধানের অংশ হতে পারবে, তবে তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশই উত্তেজনা প্রশমন করতে চায় উল্লেখ করে হাকান ফিদান জানান, সংঘাত অবসানের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ফিদান সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা ও চুক্তিতে পৌঁছাতে তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিছু কারিগরি বিষয়ে এখনও সমাধান হয়নি, তবে উভয় পক্ষ খসড়া কাঠামোর বিষয়ে ব্যাপকভাবে একমত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আমরা খুব শিগগিরই ভালো খবর পাব।’ ফিদান আরও জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবিক প্রভাবের কারণে পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে হরমুজ প্রণালী সংকট এখন বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রণালীটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আফ্রিকার কিছু অংশে খাদ্যসংকট এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিস্তৃত আলোচনার আগে ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয়েই প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে চায় বলে জানান ফিদান। তবে ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, একটি তৃতীয় পক্ষ এই আলোচনায় বাধা দিচ্ছে। কূটনীতিকে সমর্থন করার জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বাস করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান কাঠামোর কোনো চুক্তি তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। তাই তারা আলোচনা ভেস্তে দিতে বা ব্যাহত করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করছে।’

গাজায় চলমান বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক বিরোধিতাকে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করেন ফিদান। তিনি সতর্ক করে জানান, ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বৈশ্বিক ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী ও দখলদারিত্বের নীতিগুলো কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।’ ঐতিহাসিক কারণে ইসরায়েল নিজেকে দায়মুক্তিপ্রাপ্ত মনে করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের ব্যতিক্রমী বলে মনে করে। আমি মনে করি এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা।’ যারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ বা গণহত্যা চালায়, তাদের চিহ্নিত করে নিন্দা জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যোগ দেবেন বলে ফিদান প্রত্যাশা করেন। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ব্যবস্থা আর বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না। এদিকে, সিনোপ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। ২০০৮-২০০৯ সালে কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের (কেপকো) সঙ্গে হওয়া আলোচনার কথা স্মরণ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তির মাধ্যমেই এই প্রকল্প এগিয়ে যাবে।

কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং ২০১২ সালে কৌশলগত অংশীদারিত্বের অধীনে এই সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত ২৪ বছর ধরে সব পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও জানান ফিদান।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.