হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা ও জ্বালানি সংকট: ১০০ দিনের যুদ্ধে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের ১০০ দিন পার হয়েছে। এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা এবং মূল্যবান ধাতুর ব্যাপক দরপতনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি এক গভীর সংকটে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ চালালে এবং পরবর্তীতে ইরান পাল্টা হামলা করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর। স্বাভাবিক সময়ে এক সপ্তাহে যে পরিমাণ জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করত, যুদ্ধের প্রথম ১০০ দিনে মাত্র সেই সংখ্যক (প্রায় ১,০০০) জাহাজ এখান দিয়ে পার হয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধপূর্ব অবস্থার তুলনায় জাহাজ চলাচল ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বব্যাপী দৈনন্দিন তেল ব্যবহারের ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথের সার বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হতো।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালীটি সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে, তবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে। তবে ১৮ এপ্রিল ইরান প্রণালীটিকে কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের বন্দরগামী বা বন্দর ত্যাগকারী জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানায়।
জাহাজ চলাচলে এই অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি খাত। কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই প্রণালী দিয়ে এলএনজি পরিবহন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। প্রথম ১০০ দিনে মাত্র ১৮টি এলএনজি বহনকারী জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে, যা মোট যাতায়াতের মাত্র ২ শতাংশ।
জ্বালানি সরবরাহে এমন অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। যুদ্ধের আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২ দশমিক ৭৮ ডলার। তবে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের কারণে ৩০ এপ্রিল তা বেড়ে ১২৬ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছায়, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের গুঞ্জন উঠলে দাম কিছুটা কমে আসে। সংঘাতের ১০০তম দিনের আগের দিন (৫ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৩ দশমিক ০৯ ডলারে স্থির হয়, যা যুদ্ধপূর্ব অবস্থার তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতুর ব্যাপক দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। যুদ্ধের আগে জানুয়ারি মাসে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫,৬০০ ডলারে পৌঁছালেও, যুদ্ধের প্রভাবে তা কমে ৫ জুনে ৪,৩২৮ দশমিক ৬ ডলারে নেমে আসে, যা ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম। একইভাবে রুপার দাম ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩১ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনিসংকেত। কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বড় ধরনের মূল্য চোকাতে হতে পারে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.