আপনি পড়ছেন

বান্দরবানের দুর্গম সীমান্তাঞ্চলে নতুন একটি সশস্ত্র সংগঠন খুমি পিপল ফোর্স (কেপিএফ)-এর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতোয়া অঞ্চলে সক্রিয় এই সংগঠনটির সদস্যদের সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মিয়ানমার সীমান্তে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী, সতর্ক বাংলাদেশ
মিয়ানমার সীমান্ত

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আরাকান আর্মির প্রভাব বৃদ্ধির পর পালেতোয়া অঞ্চলের খুমি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা থেকে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। নিজেদেরকে খুমি জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পরিচয় দিলেও সীমান্তে তাদের সক্রিয়তা বাংলাদেশের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয়দের দাবি, গত এপ্রিল থেকে বান্দরবানের তিনমুখ পিলারসংলগ্ন কেসপাই পাড়া, তংব্রাই ডুলু চাঁদ, থানদৈ, ক্রামচি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কেপিএফ সদস্যদের দেখা গেছে। মে মাসের শেষ দিকে থানচির তিন্দু ইউনিয়নের পাউপাড়া এলাকাতেও তাদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়।

গত ২৫ মে খুমি পিপল ফোর্স বিজিবির কাছে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে সংগঠনটি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সীমান্ত এলাকায় চলাচল ও যোগাযোগের সুযোগ চায়। একইসঙ্গে তারা দাবি করে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে।

তবে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে চলাচল বা অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় কারবারির মাধ্যমে একটি সীমান্ত ফাঁড়িতে চিঠিটি পৌঁছানো হয়েছিল। তবে সীমান্তে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পালেতোয়া অঞ্চলে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে তারা বিকল্প নিরাপদ এলাকা ও যোগাযোগপথ খুঁজছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, নদীপথ ও সীমান্তবর্তী জনপদ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক।

এ ছাড়া বান্দরবানের কিছু এলাকায় খুমি জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকায় ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা সাধারণ মানুষ ও সশস্ত্র সদস্যদের আলাদা করে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী কোনো দেশের সশস্ত্র বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয়, অবস্থান কিংবা চলাচলের সুযোগ দেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। সীমান্ত দিয়ে কোনো বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের শনাক্ত করে প্রতিরোধ ও বহিষ্কার করা হবে। দেশের ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই বিদেশি সশস্ত্র সংগঠনের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বান্দরবানের সীমান্ত পরিস্থিতিকে এখন শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক অনুপ্রবেশ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.