আপনি পড়ছেন

ইরানের পুনর্গঠনে প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিলকে একটি ‘আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে কাতার। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে উপসাগরীয় দেশগুলো এই তহবিলে অর্থায়ন করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এই তথ্য জানান।

কাতার: ইরানের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কেবলই ‘আকাঙ্ক্ষা’
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি

শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘ইরানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ তহবিলের জন্য নির্ধারিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সংখ্যাটি একটি আকাঙ্ক্ষা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশ হিসেবে আমরা এখন নিজেদের এবং ইরানের মধ্যে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ করছি। আশা করছি, ভবিষ্যতে আমাদের সবার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে উঠবে, যা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রস্তাব দিয়েছে যে উপসাগরীয় দেশগুলো এই তহবিলে অর্থায়ন করতে পারে। প্রাথমিকভাবে এটি ইরানে বিনিয়োগের জন্য কোম্পানিগুলোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তবে কাতার আর্থিকভাবে এতে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি শেখ মোহাম্মদ। তার মতে, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের উন্নতি ও তাদের অর্থনীতির বিকাশ। আমাদের বিনিয়োগ মূলত সবসময় বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে।’

প্রস্তাবিত এই অর্থায়ন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক শত্রুতার অবসান ঘটানো। এই বিধানের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি চূড়ান্ত কর্মসূচি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান করবে। এছাড়া এই স্মারকের অন্যতম শর্ত হলো ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।

হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কোনো এক পক্ষের নিয়ন্ত্রণ অগ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি ট্রানজিট ফি আরোপের যেকোনো ইরানি পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ৩০তম দিনে প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া উচিত। এটি একদিনে স্বাভাবিক হতে পারে না এবং এর জন্য অনেক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে।’

যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ক্ষতি করেছে তা মেরামত করতে সময় লাগবে বলে সতর্ক করে তিনি জানান, সার, ইউরিয়া এবং পেট্রোকেমিক্যালসের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি আগামী মাসগুলোতেও অনুভূত হবে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রণালীটি খোলা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান যে এটি বন্ধ করার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া বা মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য বাধা এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডে আলোচনার সময় যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সম্মত হওয়া হটলাইনটি ভুল তথ্য মোকাবিলা এবং মাইন অপসারণের সময় সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি বা শর্ত মেনে নিতে পারি না যেখানে বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক প্রটোকলের পরিপন্থী। কাতারের মতো একটি দেশের জন্য এটিই একমাত্র জলপথ।’

৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য অন্তত সাধারণ চুক্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘অনেক প্রযুক্তিগত বিষয় রয়েছে যেগুলোতে আরও সময় লাগতে পারে। বিস্তারিত চুক্তির জন্য এটি পরবর্তী ধাপে আসতে পারে, যা পারমাণবিক চুক্তির ওপর নির্ভর করছে।’

লেবানন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সংঘাত নিরসন ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে। এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়টি যাচাই করা, যা লেবানন সরকার, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে করা হবে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘ইসরায়েল সরকার উত্তেজনা কমানো এবং গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল উপায়ে কাজ করার পরিবর্তে সংঘাত বাড়িয়ে তুলছে।’

সমঝোতা স্মারকে লেবাননে শত্রুতা বন্ধের কথা বলা হলেও ইসরায়েল তাদের বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.