হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ অবসানে চলমান আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনার নতুন বাধা সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার রূপরেখা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ওই অঞ্চলে সফররত উচ্চপদস্থ মার্কিন দূতের সঙ্গে তেহরান সাক্ষাৎ করবে না। এর ফলে বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমেছে।
চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বুধবার বাজারের মূল মনোযোগ থাকবে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের দিকে, তবে তিনি ভবিষ্যতের কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আয় ঘোষণার মৌসুম আসন্ন হওয়ায় কোম্পানিগুলো শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সুদের হার বৃদ্ধির উদ্বেগের কারণে বাজারে তৈরি হওয়া বিক্রয় চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর চাহিদা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এর ফলে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ বেড়ে প্রায় ৭৬ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। একই সময়ে নতুন নিয়োগ ৪৫ হাজার কমে প্রায় ৫২ লাখে নেমে এসেছে।
পদত্যাগ ও ছাঁটাইসহ কাজ ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যা ৬৩ হাজার বেড়ে ৫১ লাখে পৌঁছেছে।
তেলের দাম কমার মধ্যে জুনে কনফারেন্স বোর্ডের ভোক্তা আস্থা সূচক বেড়ে ৯১.২-এ দাঁড়িয়েছে, তবে এটি পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের অত্যাধুনিক এআই মডেল ‘ক্লড ফেবল ৫’ এবং ‘মিথোস ৫’-এর ওপর থেকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইল্ড ১০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪.৪৭ শতাংশে পৌঁছায় এবং বুধবার তা অপরিবর্তিত থাকে। একই দিনে মার্কিন ডলার সূচক শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০১.৩-এ অবস্থান করছে।
বুধবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৮০ ডলারে এবং ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩.২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা জানান, তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে তেলের বাজার নির্ধারিত হচ্ছে, তবে হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল এখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরেনি।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম বাড়ায় মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন হয়।
মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া, এএমডি এবং ইন্টেলের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ২.৬৩ শতাংশ, ৭.৬৮ শতাংশ এবং ৬.০১ শতাংশ বেড়েছে।
মঙ্গলবার ডাও জোন্স শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং নাসডাক ১.৫২ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক ২০২০ সালের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তবে বুধবার মার্কিন সূচকগুলো নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরু হয়।
প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলোতেও ইতিবাচক লেনদেন হয়।
বিশ্লেষকরা জানান, বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরে আসছেন, যার ফলে ইউরোপীয় বাজারগুলো ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারে।
সিএনবিসির তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) ফোরামে জার্মানির বুন্দেসবাংকের প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম নাগেল জানান, জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখনও রয়ে গেছে এবং যুদ্ধ অবসানের চেষ্টা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই থাকবে।
বুধবার ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।
জ্যালানি খরচের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে মে মাসে জার্মানির আমদানি মূল্য সূচক বার্ষিক হিসেবে ৬.৮ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রান্তিক হিসেবে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে বার্ষিক হিসেবে এটি শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এই প্রথম যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ১ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি অর্জন করল।
জুনে জার্মানির বেকারত্বের হার ৬.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বাভাসের মধ্যেই রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ, ইতালির এফটিএসই এমআইবি ৩০ সূচক ১.০১ শতাংশ এবং জার্মানির ডিএএক্স ৪০ সূচক ১.৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে। বুধবার ইউরোপীয় সূচকগুলো মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে।
এদিকে বুধবার লেনদেন শেষের দিকে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া এশিয়ার অন্যান্য শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুনে জাপানের ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) ৫৪.৮ এবং চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ৫১.৭-এ অবস্থান করছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাপানের তানকান অল বিগ ইন্ডাস্ট্রি মূলধনি ব্যয় (ক্যাপেক্স) ১১.৫ শতাংশ বেড়েছে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
মার্কিন ডলার ও জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ১৬২.৮-এ লেনদেন হচ্ছে, যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে। জাপানি নীতিনির্ধারকরা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় নেমে আসা জাপানের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রবৃদ্ধি ব্যাহত না করে বা মূল্যস্ফীতি না বাড়িয়ে ব্যাংক অব জাপানের নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা মাঝারি মেয়াদে দেশটির অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পূর্বাভাসকে জোরালো করছে।
বিশ্লেষকরা জানান, জাপানের অর্থনৈতিক প্রশাসন রাজস্ব প্রণোদনা এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করছে।
লেনদেন শেষের দিকে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১.১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.