আপনি পড়ছেন

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডে একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের খবর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইয়েমেনের খুব কাছে নতুন ঘাঁটি, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ
বারবেরা বিমানবন্দরের প্রবেশপথ

বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বারবেরা বিমানবন্দরে বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে।

সোমালিল্যান্ডের উপকূলীয় শহর বারবেরা বহুদিন ধরেই আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানকার গভীর সমুদ্রবন্দর পূর্ব আফ্রিকার বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বারবেরা বিমানবন্দর।

ইয়েমেন উপকূল এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালির খুব কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় এই বিমানবন্দরকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যে কোনো সামরিক উপস্থিতি সরাসরি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের হাতে থাকা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে বারবেরা বিমানবন্দরের দক্ষিণ অংশে ব্যাপক খননকাজ এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চিত্র দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সেখানে ভূগর্ভস্থ গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার, জ্বালানি মজুত কেন্দ্র কিংবা সামরিক হ্যাঙ্গার নির্মাণ করা হতে পারে। একাধিক স্থানে বড় আকারের পরিখা খনন করে পরে তা পুনরায় মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২০১৭ সালে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে বারবেরা বিমানবন্দর সামরিক ব্যবহারের সুযোগ পায় আবুধাবি। এরপর থেকেই বিমানবন্দরের রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং নৌ-সুবিধা উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করে দেশটি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান সম্প্রসারণকাজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড় পরিসরে চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে সক্রিয় হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলা ইসরায়েলকে বিকল্প সামরিক অবস্থান খুঁজতে বাধ্য করেছে।
ইসরায়েলের জন্য বারবেরা একটি সম্ভাব্য অগ্রবর্তী ঘাঁটি হতে পারে, যেখান থেকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সহজ হবে।

যদিও ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ড—দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক চুক্তির কথা স্বীকার করেনি, তবুও বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ে যোগাযোগ ইতোমধ্যেই বেড়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উপায় খুঁজছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আঞ্চলিক ঘাঁটি জিবুতিতে অবস্থিত। তবে সেখানে চীনের সামরিক উপস্থিতি এবং ইয়েমেনে হামলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ওয়াশিংটন বিকল্প ঘাঁটির সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা। সে দিক থেকে বারবেরার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্মাণকাজ শুধু অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়; সেখানে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত মিলছে।

আগে উত্তর সোমালিয়ার বোসাসো এলাকায় আরব আমিরাতের নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে আধুনিক রাডার স্থাপনের ঘটনাও এই মূল্যায়নকে আরও জোরালো করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবেরা বিমানবন্দরের এই সামরিক রূপান্তর সফল হলে লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

একদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে, অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তৎপরতা বারবেরাকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.