আপনি পড়ছেন

তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় নিজেদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) বা একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মহীসোপানের সীমানা নির্ধারণে আলোচনা শুরু করেছে জাপান ও ফিলিপাইন। তবে এই আলোচনাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে চীন। বেইজিংয়ের তীব্র আপত্তির কারণে এই অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সীমানা নির্ধারণে জাপান-ফিলিপাইন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড় চীন
তাইওয়ানের পূর্ব দিকের সমুদ্রের একটি দৃশ্য

জাপান এবং ফিলিপাইনের মধ্যে কোনো স্থল সীমান্ত নেই। তবে মে মাসে জাপানের রিউকিউ-ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জ এবং উত্তর ও পূর্ব ফিলিপাইনের মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ঘোষণা দেয় দেশ দুটি। এরপর থেকেই ওই এলাকায় টহল শুরু করে চীন। একইসঙ্গে এই আলোচনাকে ‘সীমানা নির্ধারণের নামে কারসাজি এবং চীনের সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থের লঙ্ঘন’ বলে সমালোচনা করে বেইজিং।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে দাবি করে। তাইওয়ানের দাবি, ওই জলসীমা তাদের ইইজেড-এরও অংশ। তাই নিজেদের সামুদ্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে জাপান ও ফিলিপাইনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাইপে।

উপকূলীয় রেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৩০ মাইল) পর্যন্ত একটি দেশের ইইজেড বিস্তৃত থাকে। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক সনদের (আনক্লস) অধীনে, একাধিক দেশের সামুদ্রিক দাবি মিলে গেলে একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ন্যান্সি স্নো জানান, স্পষ্ট সামুদ্রিক সীমানা মৎস্যসম্পদ, সমুদ্রতলের সম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, জ্বালানি অনুসন্ধান এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তিনি আরও জানান, টোকিও ও ম্যানিলার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেওয়ায় এই আলোচনার বৃহত্তর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে।

আনাদোলুকে ন্যান্সি স্নো বলেন, ‘বেইজিং এই আলোচনাকে এমনভাবে দেখছে যেন তাইওয়ানের চারপাশের জলসীমা একটি আন্তর্জাতিক বা আইনি স্থান, যা নিয়ে জাপান ও ফিলিপাইন চীনকে ছাড়াই আলোচনা করতে পারে।’

তিনি জানান, চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে এবং দ্বীপটির পূর্ব দিকের জলসীমাকে নিজেদের ইইজেড ও মহীসোপান বলে দাবি করে।

তিনি বলেন, ‘বেইজিংয়ের ক্ষোভ আইনগত দিকের চেয়ে রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে বেশি। একটি দ্বিপাক্ষিক সীমানা নির্ধারণ চুক্তি চীন বা তাইওয়ানকে বাধ্য করতে পারে না এবং আনক্লসভুক্ত দুটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের বৈধ আলোচনায় চীন চাইলেই ভেটো দিতে পারে না।’

সীমানা নির্ধারণ ও কৌশলগত জোট
তাইওয়ানের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চ-এর সহযোগী গবেষণা ফেলো চিয়েনিউ শিহ আনাদোলুকে জানান, জাপান ও ফিলিপাইনের ইইজেড-এর মধ্যে আসলেই একটি মিল রয়েছে এবং এ কারণেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই আলোচনা ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনের সামুদ্রিক কাঠামো সুসংহত করতে জাপান ও ফিলিপাইনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।’

শিহ জানান, ভবিষ্যতে জাপান হয়তো ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনকে (জাপান, তাইওয়ান ও ফিলিপাইন নিয়ে গঠিত) একটি একক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে একীভূত করার চেষ্টা করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে।

তিনি বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণ কেবল মৎস্যসম্পদ, সমুদ্রতলের সম্পদ বা এখতিয়ারের বিষয় নয়। এটি ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন বরাবর একটি আইনভিত্তিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়।’

তিনি আরও জানান, সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণকে তাইওয়ানের বিতর্কিত রাজনৈতিক মর্যাদা এবং চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়।

চীনের সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ
থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ফিলিপাইন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জর্জি এঙ্গেলব্রেখট জানান, এই আলোচনা টোকিও ও ম্যানিলার মধ্যকার শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সামুদ্রিক সীমানা তাইওয়ানের ইইজেড-এর সঙ্গে মিলে যেতে পারে, যার ফলে তাইপের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এঙ্গেলব্রেখট জানান, ম্যানিলা ও টোকিও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে দেখে চীন খুশি নয়।

তিনি বলেন, ‘বেইজিং নিজেদের সরাসরি জড়িত মনে করছে, কারণ তারা মনে করে এই ধরনের আলোচনা তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানছে।’

তিনি আরও জানান, ম্যানিলা ও টোকিওর মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা আলোচনা কৌশলগত আস্থা বাড়ালেও তা চীনকে নিবৃত্ত করতে পারবে না।

সংঘাতের দিকে দুই ধাপ
বেইজিংভিত্তিক বিশ্লেষক আইনার টাঙ্গেন দাবি করেন, এই আলোচনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

আনাদোলুকে তিনি বলেন, ‘জাপান ও ফিলিপাইনের সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে আলোচনা চীনের সঙ্গে সংঘাতের দিকে দুই ধাপ এগিয়ে যাওয়ার শামিল।’

তিনি বলেন, ‘পূর্ব এশিয়া জুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এটি আরেকটি পদক্ষেপ। চীনকে কোণঠাসা করার কৌশলগত হিসাব-নিকাশ থেকে আন্তর্জাতিক আইনের মোড়কে এটি করা হচ্ছে।’

টাঙ্গেন জানান, জাপান ও ফিলিপাইন চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে তাইওয়ানের কাছাকাছি সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে আলোচনা করতে পারে, এই ধারণা বেইজিং প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত না হওয়ায় তাইওয়ান আনক্লস-এর স্বাক্ষরকারী নয়। এ বিষয়ে টাঙ্গেন বলেন, ‘জাপান ও ফিলিপাইন যুক্তি দিচ্ছে যে তাদের কোনো চুক্তি তৃতীয় পক্ষকে বাধ্য করবে না। আইনগতভাবে এটি সত্য হতে পারে। তবে কৌশলগতভাবে এটি মূল বিষয়টিকে এড়িয়ে যায়। চীন মনে করে এই আলোচনা তাদের সার্বভৌমত্বের দাবির সঙ্গে যুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চলগুলোকে প্রভাবিত করবে।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.