আপনি পড়ছেন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাস্তবায়নাধীন চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি দেশের শিল্প খাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি চীনের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিবিড় করার পাশাপাশি দেশের রপ্তানিমুখী উৎপাদন ভিত্তি সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের হাতছানি
বাংলাদেশ ও চীনের পতাকা

এই প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হচ্ছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় আনোয়ারায় প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও একসেসরিজ এখন দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর ফলে পণ্য সরবরাহের সময় এবং উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এটি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন।

প্রকল্পটির জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীন সরকার রেয়াতি অর্থায়ন হিসেবে প্রদান করবে। বাকি অর্থের সংস্থান করবে বাংলাদেশ সরকার। এই অবকাঠামোর আওতায় ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, ৩৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হবে।

কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। উন্নত টেক্সটাইল, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে। শক্তিশালী পরিবহন ও লজিস্টিক সংযুক্তির কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি এই অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা স্থাপনের উপযোগী হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর এই প্রকল্পের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে বিশেষ গতি সঞ্চার হয়েছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় প্রায় সব নথিপত্রের কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

২০১৪ সালে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় থমকে ছিল। ২০২২ সালে চীন সরকার প্রকল্প উন্নয়নের জন্য চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনকে মনোনীত করার পর অনিশ্চয়তা দূর হয়। বর্তমানে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি দেশীয় ও অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি শিল্পায়নের গতি বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.