বাংলাদেশে লাইসেন্সবিহীন ওয়াই-ফাই ব্যবহারের জন্য ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড স্পেকট্রামের ওপরের স্তরের (৭০০ মেগাহার্টজ) তরঙ্গ উন্মুক্ত করার শর্ত রাখা হয়েছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এক বাণিজ্য চুক্তিতে। তবে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য ও কারিগরি ঝুঁকি বিবেচনায় এ তরঙ্গ উন্মুক্ত করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ভারত, চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে এই মূল্যবান তরঙ্গ মোবাইল সেবার জন্য সংরক্ষণ করছে, সেখানে বাংলাদেশ একা ভিন্ন পথে হাঁটলে সিগন্যাল ইন্টারফেয়ারেন্স ও আন্তর্জাতিক ডিভাইস ইকোসিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হবে বলে সতর্ক করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

৬ গিগাহার্টজ তরঙ্গ নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত: আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতা ও ইন্টারফেয়ারেন্সের ঝুঁকি
টাওয়ারের ছবি

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিটিআরসি জানিয়েছে, ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ঊর্ধ্বাংশের ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ফাইভজি, সিক্সজি ও আন্তর্জাতিক মোবাইল টেলিযোগাযোগ (আইএমটি) সেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটির মতে, দেশে এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যান্ডে ওয়াই-ফাইসহ লাইসেন্সবিহীন প্রযুক্তির জন্য মোট ৭ ৩৩ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে, যা বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। চুক্তির শর্ত মেনে এই তরঙ্গ ওয়াই-ফাইয়ের জন্য ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে মোবাইল সেবার জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গের তীব্র সংকট তৈরি হবে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আগে এ বিষয়ে বিটিআরসির মতামতও নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তরঙ্গ ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সমন্বয় বা হারমোনাইজেশন অত্যন্ত জরুরি। বিল্ডকন কনসালটেন্সি লিমিটেডের ম্যানেজিং পার্টনার ও সাবেক টেলিকম সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, তরঙ্গ বরাদ্দ শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভর করে না; প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আইটিইউর সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিতে হয়। ভারত, চীন, লাওস, কম্বোডিয়া, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলো এই ৬ গিগাহার্টজ তরঙ্গ মোবাইল সেবার জন্যই সংরক্ষণ করছে। বাংলাদেশ যদি এককভাবে বিপরীত পথে হেঁটে এটি ওয়াই-ফাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করে, তবে সীমান্ত এলাকায় সিগন্যাল ইন্টারফেয়ারেন্স তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর গড়ে তোলা বিশাল ডিভাইস ইকোসিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) ২০২৩ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) বাংলাদেশও এই তরঙ্গ মোবাইল সেবায় ব্যবহারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। বিটিআরসি চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, এই ব্যান্ড অন্য সেবায় ব্যবহার করা হলে আইটিইউ রিজিয়ন-৩-এর রেডিও রেগুলেশনসের মানদণ্ড থেকে বিচ্যুতি ঘটবে। এর ফলে আঞ্চলিক সামঞ্জস্য বিনষ্ট হবে, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা জটিল হবে এবং চূড়ান্তভাবে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হবে।

একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব)। সংগঠনের মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার জানান, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সময়মতো প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দ না পেলে দেশে আধুনিক ফাইভজি ও সিক্সজি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং নেটওয়ার্কের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। দেশে বেশির ভাগ মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করায় এই উচ্চমূল্যের তরঙ্গ মোবাইল সেবায় ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত।

তবে ভিন্নমতও রয়েছে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের পক্ষে। আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম মনে করেন, ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ওয়াই-ফাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হলে সাধারণ গ্রাহকরা জটমুক্ত ও উচ্চগতির বাসাবাড়ির ইন্টারনেট সেবা পাবেন। আবার টেলিকম বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গবেষণা ও কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা উচিত।

সার্বিক বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানান, বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল এবং সরকারের কাছে ইতিমধ্যে বিটিআরসির মতামত পাঠানো হয়েছে। সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিলে সম্ভাব্য ইন্টারফেয়ারেন্সের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে ভবিষ্যতের মোবাইল ব্রডব্যান্ড চাহিদা মেটাতে প্রায় ২ হাজার মেগাহার্টজ তরঙ্গ লাগবে, যা নিশ্চিত করতে এই ৬ গিগাহার্টজ তরঙ্গ মোবাইল খাতেই ধরে রাখা জরুরি বলে মনে করছে বিটিআরসি।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.