আপনি পড়ছেন

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কথা বিবেচনা করছে ইরান। তবে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, কৌশলগত এই জলপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় দেওয়ার ওপর নির্ভর করছে। একইসঙ্গে ইয়েমেনে হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

ওমানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান, শর্ত জুড়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্রকে
হরমুজ প্রণালীতে টহল দিচ্ছে ইরান

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ওমানের সঙ্গে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রণালীটি পুরোপুরি চালুর বিষয়টি নির্ভর করবে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রতিশ্রুতিগুলো যুক্তরাষ্ট্র কতটা মেনে চলে তার ওপর।’ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না করা, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটকে সমর্থন দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় না করার বিষয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছিল ইরান।

এদিকে, এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।’ বিরোধীদের মোকাবিলায় তিনি পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, তা-ও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর নিজস্ব নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এর সঙ্গে ইরান-ওমান আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘কৌশলগত এই প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো উপায় থাকবে না।’ আইআরজিসি এই প্রণালীটিকে শুধু একটি অর্থনৈতিক জলপথ হিসেবে নয়, বরং ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতার উৎস হিসেবে দেখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ওমানের সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান আইআরজিসির এই মুখপাত্র।

শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, প্রণালীটি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই চুক্তি হতে পারে। তবে সিদ্ধান্তটি উচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, জাহাজ চলাচলের রুটের স্থানাঙ্ক নির্ধারণে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান। ইরানের জলসীমার উত্তরের লেন দিয়ে জাহাজ প্রবেশ করবে এবং ওমানের জলসীমার দক্ষিণের লেন দিয়ে বের হবে, যা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তিটি ৬০ দিনের জন্য হতে পারে এবং পরে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। চুক্তিতে নৌ-মাইন অপসারণ, সামরিক জাহাজের যাতায়াত এবং সমন্বিত ফি ব্যবস্থার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রণালীটি পুরোপুরি চালুর জন্য ইরান এই পদক্ষেপগুলোকে অপরিহার্য বলে মনে করে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ওমানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিতে এই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও উত্তেজনা এখনো চরমে। শনিবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (অ্যাডনক) একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং প্রণালীটিকে অর্থনৈতিক জবরদস্তি বা ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আইআরজিসির জলদস্যুতার শামিল এবং এটি এই অঞ্চল, এর জনগণ ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

অন্যদিকে, ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অব্যাহত রেখেছে এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। শুক্রবার সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন মারিব এলাকায় হুথিরা মারাত্মক হামলা চালায়। এর জবাবে শনিবার সরকারি বাহিনী বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের নাজরানেও হামলা চালায় হুথিরা। এর আগে বুধবার তারা দুটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছিল।

এদিকে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই চুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

কূটনৈতিক চুক্তির সম্ভাবনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শুক্রবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৩ ডলারে দাঁড়ায়। শনিবার ইরানের অভ্যন্তরীণ বাজারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান শক্তিশালী হয়ে ১.৮৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে রেকর্ড ১.৯৪ মিলিয়নে নেমে গিয়েছিল। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকও ১ লাখ ১২ হাজার পয়েন্ট বা ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫.৫২ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.