আপনি পড়ছেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় জেনিনের পূর্বে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফের অবৈধ বসতি ‘গানিম’ স্থাপন করেছে ইসরায়েলি দখলদাররা। ২০০৫ সালের ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার পরিকল্পনার আওতায় এটি খালি করার ২১ বছর পর পুনরায় এই বসতি স্থাপন করা হলো।

২১ বছর পর জেনিনে ফের অবৈধ বসতি ইসরায়েলের
জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হওয়া ফিলিস্তিনি স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয়রা

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, বৃহস্পতিবার হাদ্দাদ চত্বর থেকে আল-জালামা সামরিক চেকপয়েন্ট পর্যন্ত প্রধান সড়কের প্রবেশপথ ও শাখা রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। অবৈধ এই বসতি স্থাপনে অংশ নেওয়া দখলদার ও তাদের নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসতি স্থাপন কার্যক্রমে তথাকথিত উত্তর পশ্চিম তীর বসতি পরিষদের প্রধান ইয়োসি দাগান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহি এবং নেসেটের সদস্যরা অংশ নেন।

জেনিন প্রদেশের বসতি বিষয়ক প্রধান তারিক ইগবারিয়া জানান, গানিম বসতিতে দখলদারদের ফিরে আসা একটি বিপজ্জনক অগ্রগতি, যা জেনিনের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে তৈরি করছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে এই বসতি স্থাপনের ফলে প্রদেশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, এলাকাটি সামরিক ব্যারাকে পরিণত হবে, হামলা ও সংঘাত বাড়বে এবং ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা হুমকির মুখে পড়বে।’

ইগবারিয়া আরও বলেন, ‘এই পদক্ষেপ চরমপন্থী দখলদার সরকারের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের আধিপত্যের প্রতিফলন এবং এটি একটি ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেয়।’

জেনিন প্রদেশে ইসরায়েল ২৭টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কয়েকদিন পরই গানিম বসতি পুনরায় স্থাপন করা হলো। উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানান, এসব স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে সেখানে নতুন করে বসতি স্থাপনের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি অবৈধ বসতি স্থাপন বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে জেনিনের কাছে গানিম ও কাদিমে ফের বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেয় ইসরায়েলি সরকার।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে নেসেট তাদের ‘সেনা প্রত্যাহার পরিকল্পনা’ আইন সংশোধন করে। এর মাধ্যমে ২০০৫ সালে খালি করা উত্তর পশ্চিম তীরের এলাকাগুলোতে ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও বসবাসের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

ওই পরিকল্পনার আওতায় চারটি অবৈধ বসতি এবং স্থায়ী সামরিক স্থাপনা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছিল, যা উত্তর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে।

বসতি স্থাপন বিষয়ক জাতিসংঘের মহাসচিবের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ১৪ মার্চ থেকে ১২ জুনের মধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে ৪ হাজার ৭৫০টি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে বা অনুমোদন করেছে।

একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ মার্চ ইসরায়েলি সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরের এরিয়া সি-তে ৩৪টি অবৈধ বসতি স্থাপন বা বৈধতা দেওয়ার অনুমোদন দেয়, যা ইসরায়েলি সরকারের একক সিদ্ধান্তে অনুমোদিত সর্বোচ্চ সংখ্যা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ‘কোনো আইনি বৈধতা নেই’ এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.