ফিফার অর্ধেক কনফেডারেশনের বিদ্রোহ, টিকতে পারবেন ইনফান্তিনো?
- Details
- by খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বের অর্ধেক ফুটবল কনফেডারেশন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে তার আগামী মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি গভীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সোমবার উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ ফিফার সঙ্গে তাদের সংঘাত তীব্র করেছে। ফিফা বিশ্বকাপের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বাতিল হওয়া প্রস্তাব পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা ফিফা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘মৌলিক বিশ্বাসভঙ্গ’ এবং ‘প্রতারণা’-এর অভিযোগ এনেছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে কনফেডারেশনগুলো এই বিতর্ককে নিছক যোগাযোগ বা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা দাবি করে, এই প্রচেষ্টা ছিল বিচারবোধের এক মারাত্মক ব্যর্থতা। পাশাপাশি তারা একটি স্বাধীন পর্যালোচনারও আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৭ সালে পুনরায় নির্বাচনে লড়ার জন্য মে মাসে ঘোষণা দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এই সংঘাত সামনে এল। তবে ফিফার নির্বাচনী সমীকরণ এখনো এমন একজন সভাপতির পক্ষে থাকতে পারে, যিনি প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন আদায়ে সক্ষম। ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটির একটি করে ভোট রয়েছে। অর্থাৎ, কনফেডারেশন নেতাদের বিরোধিতার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ভোট নয়।
জাতিসংঘের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ফিফার সুশাসন বিষয়ক বিশ্লেষক হার্ভে ভারহুসেল আনাদোলুকে এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, এই ভোটগুলোর পেছনের রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ বদলে গেছে। তিনি জানান, একবার কোনো কনফেডারেশন ফিফা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিশ্বাসভঙ্গের ঘোষণা দিলে এর অন্তর্ভুক্ত স্বতন্ত্র অ্যাসোসিয়েশনগুলোর, বিশেষ করে ছোটগুলোর জন্য বিপরীত অবস্থান নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
ভারহুসেল বলেন, ‘তাদের হাতে এখনো ভোট আছে। তবে সেই ভোটের রাজনৈতিক মূল্য বদলে গেছে।’
ভারহুসেলের মতে, বড় প্রশ্নটি এখন আর ইনফান্তিনো ক্ষমতায় থাকার জন্য পর্যাপ্ত ভোট সংগ্রহ করতে পারবেন কি না তা নয়, বরং ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়া একটি সংস্থাকে পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত কর্তৃত্ব তিনি ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটাই মূল বিষয়।
তিনি বলেন, ‘একজন সভাপতি টিকে থাকার জন্য হয়তো এখনো পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত ভোট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ভোটে টিকে থাকা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখা এক জিনিস নয়।’
ভারহুসেল যুক্তি দেখিয়ে জানান, ফিফার একটি বড় অংশ যদি আর তাদের নেতৃত্বকে বিশ্বাস না করে, তবে প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তই আরেকটি সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। প্রতিটি ভোট আনুগত্যের পরীক্ষায় পরিণত হবে এবং প্রতিটি উদ্যোগ ব্লকগুলোর মধ্যে লড়াইয়ে রূপ নেবে।
তিনি বলেন, ‘এটি টেকসই নয় এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বিশ্ব ফুটবলের স্বার্থের অনুকূলে নয়।’
তিনি আরও জানান, ফিফার ২১১টি অ্যাসোসিয়েশনের সামনে এখন ইনফান্তিনোকে সমর্থন বা বিরোধিতার চেয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা ফিফার জন্য আসলেই মঙ্গলজনক কি না, শেষ পর্যন্ত তাদের তা বিবেচনা করতে হতে পারে।
ফিফার স্বাধীন সুশাসন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মার্ক পিথ আনাদোলুকে এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর।
পিথ বলেন, ‘অবশ্যই তিনি অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ব্যক্তিগত ভোট নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, তবে তিনি ভুল করেছেন; জর্ডানের দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়।’
পিথ মূলত জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ফিফার সাবেক সহ-সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইনের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। গত সপ্তাহে প্রিন্স আলী ফিফা ও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ আনেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ব্যয় এবং আরব কাপের পুরস্কারের বকেয়া অর্থসহ অমীমাংসিত নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে জর্ডান। তিনি অভিযোগ করে জানান, বিশ্বকাপের সময় তাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল যে ইনফান্তিনোকে সমর্থন করলে তা জর্ডান অ্যাসোসিয়েশনকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা জর্ডান এর আগে ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেয়নি এবং প্রিন্স আলী জানিয়েছেন তারা তা করবেও না। এই অভিযোগ তোলার দুই দিন পর তিনি জানান, ফিফা জর্ডানের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পুরস্কারের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেছে। তিনি এই অর্থপ্রদানকে স্বাগত জানালেও স্পষ্ট করে জানান, ফিফা নেতৃত্ব সম্পর্কে তার উদ্বেগ বা জর্ডানের অবস্থান বদলায়নি; তারা ইনফান্তিনোকে সমর্থন বা ভোট কোনোটিই দেবে না।
ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ নিয়ে ফিফা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
পিথ জানান, ইনফান্তিনো অনেক অ-ইউরোপীয় অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেকের সাথেই অসম্মানজনক আচরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ কারণেই তিনি এশিয়ার সমর্থন হারিয়েছেন।’
বর্তমান সংঘাতে এএফসির ভূমিকা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কারণ, চলতি বছরের শুরুতে ইনফান্তিনো যখন পুনর্নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তখন এশিয়ান কনফেডারেশন তাকে সমর্থন জানিয়েছিল।
মোট ছয়টি কনফেডারেশনের মধ্যে তিনটি এখন ফিফাকে চ্যালেঞ্জ করছে। তবে ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক ভাগ্য শেষ পর্যন্ত ব্লক হিসেবে কনফেডারেশনের ভোটের ওপর নয়, বরং জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ব্যক্তিগত ভোটের ওপর নির্ভর করছে। এর ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে জোট পুনর্গঠনের সুযোগ তার হাতে থাকছে, যদিও কয়েক মাসের ব্যবধানে রাজনৈতিক দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে।
নভেম্বরে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনের মনোনয়নের সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। তাই প্রশ্ন শুধু এটি নয় যে ইনফান্তিনো আরেকটি মেয়াদের জন্য ভোট সংগ্রহ করতে পারবেন কি না, বরং ফিফার অর্ধেক মহাদেশীয় কনফেডারেশনের প্রকাশ্য বিরোধিতার মুখে একজন সভাপতি বিশ্ব ফুটবল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.