আপনি পড়ছেন

তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে বস্ত্র খাতের ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবস্থা মারাত্মক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুত পোশাক সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা সার্বিক রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শিল্পকারখানায় গ্যাসের তীব্র সংকট, উৎপাদন ব্যাহত
গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানার চাকা ঘুরছে না

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরসিংদীর গ্যাস-সংকট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক শিল্পকারখানা এখনো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্পকারখানায় গ্যাসের সংকট আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

একাধিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ ও ভোলা ছাড়া অন্য সব এলাকার বেশির ভাগ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা গ্যাস-সংকটে ভুগছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রমিকের বেতন ও ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন না তারা।

প্রথম আলো বলছে, এলএনজি সরবরাহের একটি টার্মিনাল দুর্ঘটনার কারণে প্রায় এক মাস দেশের শিল্পকারখানা তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। গত শনিবার গ্যাস সরবরাহ বাড়লে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করে। এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হয়। তবে সংকট পুরোপুরি কাটার আগেই পরিস্থিতি খারাপ হয়। তিন দিন ধরে সরবরাহ কমার পর গতকাল বুধবার বিখেল তিনটায় কার্গো সংকটের কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংকট বাড়তে পারে।

সিরামিক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিসিএমইএর সভাপতি মঈনুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জ ও ভোলা ছাড়া অন্য এলাকার কারখানা চলছে না। চুপচাপ বসে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই। এভাবে চললে শ্রমিকের বেতন দিতে পারবে না মালিকেরা।

গতকাল নরসিংদী সদর ও মাধবদী এলাকার ১০টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় দেখা গেছে, গ্যাসনির্ভর অধিকাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ। কয়েকটি কারখানায় গেটের ভেতর শ্রমিক-কর্মচারীদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়।

নরসিংদী শহরের তাসফিয়া ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকেরা ভেতরেই অবস্থান করছেন। মেঝেতে শত শত শাড়িকাপড় পড়ে রয়েছে। মেশিনের ভেতরেও ভেজা কাপড়। পলাশ উপজেলার প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের শিল্পপার্কে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকলেও সেদিন দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘নরসিংদী ও গাজীপুরে আমাদের ৫টি শিল্পপার্ক রয়েছে। এগুলোতে গ্যাসের চাপ বর্তমানে সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। উৎপাদন চলছে পুরোদমে।’

তিতাস গ্যাসের নরসিংদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক এস এম ফজলুল হক বলেন, ‘নরসিংদীর শিল্পকারখানায় যতটুকু গ্যাস লাগে, তার চেয়েও বেশি লাগে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায়। এ ছাড়া আছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখন সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সার ও বিদ্যুতের উৎপাদন। সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের পর যেটুকু গ্যাস অবশিষ্ট থাকছে, সেটুকু শিল্পকারখানায় দিচ্ছি।’

এদিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় আর্টিসান সিরামিকসের কারখানায় গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন ২৫ শতাংশে নেমেছে। দিনে ২২ হাজার পিস তৈজসপত্র উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। তবে গতকাল ৬ হাজার পিস তৈজসপত্র উৎপাদন হয়েছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট হলেও মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। গত শুক্রবার বিকেলে মোট গ্যাস সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। শনিবার সন্ধ্যায় তা বেড়ে ২৪৪ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। গতকাল গ্যাসের সরবরাহ কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।

নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কম। কাপড় ডাইং ও ফিনিংশ কারখানা চলছে না। তৈরি পোশাক কারখানার কাঁচামাল সরবরাহে ঘাটতির শঙ্কা প্রকাশ করছেন উদ্যোক্তারা।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.