এসসিও সম্মেলন: একমঞ্চে শি, মোদি ও পুতিন
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরেশিয়ার শীর্ষ নেতারা কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অংশগ্রহণ করবেন। ১০ সদস্যের এই জোট বিশ্বের প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব, দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জটিল সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হবে। সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে চীন ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার পাশাপাশি গত বছরের সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তান একই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এতে যোগ দেবেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন থেকে শুরু করে আফগানিস্তানের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া ইউরেশিয়া জুড়ে বাণিজ্য, পরিবহন যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন এসসিও সদস্যরা।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও সামরিক উত্তেজনা কমাতে ১৯৯৬ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তান মিলে ‘সাংহাই ফাইভ’ গঠন করে। ২০০১ সালে উজবেকিস্তান যোগ দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এসসিও প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান, ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১০। ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সামরিক বা অর্থনৈতিক জোট না হলেও এটি নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং কূটনীতির একটি বড় ফোরাম।
বিশকেকে শি ও মোদির সম্ভাব্য বৈঠকটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। হিমালয় সীমান্তে উত্তেজনার পর এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে চীনা ও ভারতীয় কর্মকর্তারা সীমান্ত আলোচনায় বসেন। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল।
শি ও পুতিনের মিথস্ক্রিয়া চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং এসসিওতে তাদের সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরবে। অন্যদিকে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের নেতারাও এক বছরের বেশি সময় পর একই কক্ষে অবস্থান করবেন। কাশ্মির নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে থাকছেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠকের কথা রয়েছে।
এসসিও সচিবালয় জানায়, নেতারা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাত, আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কসহ প্রধান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৬ সালে ইরান এবং ফিলিস্তিন ইস্যুসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে এসসিও একটি দৃশ্যমান যৌথ অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা সংযম, সংলাপ এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ দমন এসসিওর সহযোগিতার একটি মূল ক্ষেত্র। অর্থনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে পরিবহন অবকাঠামো এবং প্রস্তাবিত এসসিও ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক নিয়ে আলোচনা হবে। ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর এবং ইউরেশিয়া জুড়ে আন্তর্জাতিক মালবাহী যান চলাচলে সহায়তা করতে ২০২৫ সালে সম্মত হওয়া সিল্ক রোড স্টেশন নেটওয়ার্ক নিয়েও কথা হবে।
২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশকেক ঘোষণা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নথিপত্র প্রকাশের কথা রয়েছে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কিরগিজস্তানের সভাপতিত্বের মেয়াদ শেষ হবে এবং আগামী এক বছরের জন্য নেতৃত্ব গ্রহণ করবে পাকিস্তান। তারা ২০২৭ সালের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে। সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন কীভাবে একটি বড় বহুপাক্ষিক জোটে পরিণত হয়েছে, এই সম্মেলন তারই প্রমাণ দেয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.