আপনি পড়ছেন

ভাদ্রের তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের সংকট। দিনের প্রচণ্ড গরমে যেমন স্বস্তি মিলছে না, তেমনি সন্ধ্যার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকাতেও গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়েছে।

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল মানুষ, সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াটে। এর আগে ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

পিডিবির গত দুই দিনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হয়ে কোনো কোনো সময়ে ঘাটতি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বিদ্যুৎ কম সরবরাহ হচ্ছে।

রবিবার দুপুর ১২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৭৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টার দিকে ঘাটতি আরও বেড়ে ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াটে ওঠে।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি। ওই সময় সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৮৫৪ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে কয়লার সরবরাহ ঘাটতি ও কয়েকটি কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যাও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

সংকট সামাল দিতে বর্তমানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা জানান, পিডিবির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য অন্তত ২০ হাজার টন ফার্নেস তেল সরবরাহ করা হয়েছে। এই পরিমাণ তাদের স্বাভাবিক বার্ষিক সরবরাহ সূচকের প্রায় দ্বিগুণ।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব এখন শুধু গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্যভাবে লোডশেডিং বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আবাসিক এলাকাগুলোতে দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার মধ্যেও সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। রোববার সন্ধ্যার পর বনশ্রী, খিলগাঁও, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও সেখানেও প্রত্যাশিত উৎপাদন মিলছে না।
পিডিবির হিসাবে, দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। কিন্তু রোববার সন্ধ্যা ৬টায় এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিন ইউনিটের সম্মিলিত সক্ষমতা ৪৪৪ মেগাওয়াট হলেও ইঞ্জিনের সমস্যায় সেখানে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইভিনিং পিক আওয়ারে কেন্দ্রটি প্রায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পেরেছে।

কয়লার ঘাটতির প্রভাব পড়েছে ভারতের আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রেও। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং রাতে কয়েক ঘণ্টা সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

পটুয়াখালীর আরএনপিএল কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কয়লার সংকটে রোববার সন্ধ্যায় সেখান থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

রামপাল কেন্দ্রের সক্ষমতাও ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কয়লার সংকটে সেখানে উৎপাদন ৯২০ মেগাওয়াটের বেশি উঠছে না। একই সক্ষমতার মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকেও উৎপাদন কমেছে। একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় সেখানে সর্বোচ্চ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫৫৮ মেগাওয়াট।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রেও মেশিনের সমস্যায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে বর্তমানে মাত্র ৫১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সব কেন্দ্রের পরিস্থিতি এক নয়। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার কেন্দ্রটি রোববার পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদন করেছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা না গেলে উৎপাদন ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে ভাদ্রের গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, বন্ধ ইউনিট দ্রুত চালু করা এবং বিকল্প জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোই এখন বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.