জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্বের সবচেয়ে কম সহনশীল শহরের তালিকায় ঢাকা
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর জলবায়ু ঝুঁকি ও সহনশীলতা নিয়ে করা এক সূচকে ঢাকার প্রত্যক্ষ জলবায়ু ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোজনমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে কম সহনশীল ছয়টি প্রধান শহরের তালিকায় রয়েছে।

আলফাজিওর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জলবায়ু ঝুঁকি ও সহনশীলতা সূচক (সিআরআরআই)-এর এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সূচকে বিশ্বের ৭২টি প্রধান শহরের জলবায়ু ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় নেওয়া অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সূচক অনুযায়ী, অভিযোজন ব্যবস্থা বিবেচনার আগে ঢাকার প্রত্যক্ষ জলবায়ু ঝুঁকির স্কোর ৬০—যা মূল্যায়ন করা শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বিভিন্ন অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকা এই ঝুঁকি ২৪ পয়েন্ট কমাতে সক্ষম হয়েছে। এতে শহরটির অভিযোজনের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে।
তবে প্রাথমিক ঝুঁকি অনেক বেশি হওয়ায় অভিযোজনের পরও ঢাকার ‘রেজিলিয়েন্স-অ্যাডজাস্টেড রিস্ক’ বা সহনশীলতা-সমন্বিত ঝুঁকি স্কোর ৩৬। এই স্কোরের ভিত্তিতেই ঢাকা সবচেয়ে কম সহনশীল ছয়টি প্রধান শহরের তালিকায় রয়েছে।
ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামের জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজনের পর অবশিষ্ট ঝুঁকি দুটিই কম। সূচকে চট্টগ্রামের প্রত্যক্ষ ঝুঁকির স্কোর ৪৬। বিভিন্ন অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরটি ঝুঁকি কমিয়েছে ১৬ পয়েন্ট।
চট্টগ্রামের অভিযোজনের হার ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ঢাকার ৪০ শতাংশের চেয়ে কম। তবে চট্টগ্রামের প্রাথমিক প্রত্যক্ষ ঝুঁকি কম হওয়ায় অভিযোজনের পর এর সহনশীলতা-সমন্বিত ঝুঁকি স্কোর দাঁড়িয়েছে ৩০-এ।
দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায়ও চট্টগ্রামের অবস্থান ভালো। সূচকে করাচির স্কোর ৩২, ফয়সালাবাদের ৩৪ এবং কলকাতা ও লাহোরের স্কোর ৩৫। চট্টগ্রামের স্কোর ৩০।
সূচকের বিশ্লেষণে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে চরম জলবায়ু ঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তীব্র তাপপ্রবাহকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে কম সহনশীল ছয়টি প্রধান শহরই দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
সহনশীলতা-সমন্বিত ঝুঁকির হিসাবে ভারতের আহমেদাবাদ ও পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদের স্কোর ৪১ করে। পাকিস্তানের মুলতানের স্কোর ৩৮। এরপর ৩৬ স্কোর নিয়ে রয়েছে ঢাকা। কলকাতা ও লাহোরের স্কোর ৩৫।
তবে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যেও জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে ঢাকার কিছু অগ্রগতি রয়েছে। সূচকে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার ঝুঁকি কমানোর পরিমাণ ২৪ পয়েন্ট, যা সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অভিযোজন সক্ষমতাকে ‘মাঝারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকি শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনে বড় ধরনের ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু ঝুঁকি যে গতিতে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে। এই ব্যবধান সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় ও পৌর বন্ডে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
আবাসন ও অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পদের মূল্য কমে যাওয়া, অবকাঠামোর আয়ুষ্কাল কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে অভিযোজন অর্থায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় অগ্রাধিকার দেশ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের মতে, দেশের প্রত্যক্ষ জলবায়ু ঝুঁকি এবং বর্তমান অভিযোজন উদ্যোগের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সহজ শর্তের ঋণ ও উন্নয়ন অর্থায়ন এই ঘাটতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি বড় শহরের সঙ্গে তুলনা করলে অভিযোজন ও ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। উচ্চ তাপপ্রবাহের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও টোকিওর সহনশীলতা-সমন্বিত ঝুঁকি স্কোর মাত্র ২০। বেইজিং ও সাংহাইয়ে অভিযোজনের হার ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে।
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সহনশীল শহর হিসেবে সূচকে মুম্বাইয়ের স্কোর ১৮। এরপর দিল্লি ২৩ এবং কলম্বো ২৪ স্কোর নিয়ে রয়েছে। চট্টগ্রামের স্কোর ৩০।
অন্যদিকে করাচি ৩২, ফয়সালাবাদ ৩৪, কলকাতা ও লাহোর ৩৫, ঢাকা ৩৬, মুলতান ৩৮ এবং হায়দ্রাবাদ ও আহমেদাবাদ ৪১ স্কোর পেয়েছে।
সূচকের সামগ্রিক বিশ্লেষণ বলছে, পরিকল্পিত অভিযোজন উদ্যোগ শহরগুলোর জলবায়ু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তবে যেসব শহর শুরু থেকেই অতিরিক্ত মাত্রার প্রত্যক্ষ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে বড় ধরনের অভিযোজন বিনিয়োগের পরও অবশিষ্ট ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা কঠিন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.