আপনি পড়ছেন

ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তদন্তের মধ্যে ইরানের সঙ্গে কয়েকটি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। গতকাল শনিবার ইরাকের একটি নিরাপত্তা সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, দেশটিতে ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থান শনাক্ত হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে থাকা তিনটি সীমান্তপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সৌদিতে ড্রোন হামলা, ইরানের সঙ্গে তিন সীমান্ত বন্ধ করল ইরাক
সৌদি আরবে ড্রোন হামলার স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি- এএফপি

বাগদাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জ্যাক হিউসন জানান, বন্ধ করে দেওয়া সীমান্তপথগুলো হলো বসরা প্রদেশের শালামচেহ, মাইসান প্রদেশের আল-শিব এবং দিয়ালা প্রদেশের মানদালি। তিনি বলেন, হামলাকারীরা যাতে এসব পথ ব্যবহার করে ইরানে পালিয়ে যেতে না পারে, মূলত সেই আশঙ্কা থেকেই সীমান্তপথগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাইসান প্রদেশের আল-তাইয়িব সীমান্ত এলাকাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন উৎক্ষেপণের যন্ত্রপাতি পাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান হিউসন।

এদিকে ইরানের অনুরোধে সীমান্তের কাছে ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থান শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে যৌথ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি। শনিবার ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমানের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে ওই বিবৃতিতে ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় পাওয়া গেছে কিংবা কতগুলো ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছিল, মাইসান প্রদেশ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই প্রদেশের সামরিক কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন আল-জায়েদি।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়। পরদিন শুক্রবার ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এই পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব।

শুক্রবার রিয়াদ জানায়, ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ইরানে ইরাকের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপরও তেহরানের প্রভাব রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলাটি চালানোর সম্মান তাদের হলেও তারা এর দায় স্বীকার করছে না।

এর আগে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির তেল অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ তুলেছিল।

এদিকে বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে অনানুষ্ঠানিক সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানই সম্ভবত ওই পাইপলাইনে হামলার পেছনে রয়েছে। তবে নিজের এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের জন্য এটিই ছিল একমাত্র বড় পথ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েনে থাকায় হরমুজ প্রণালি এখনো আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু না হওয়া কিংবা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের বড় পরিসরে তেল রপ্তানির কার্যকর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমে গেলে পাইকারি বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ সাত মাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে তেহরানের ওপর আরও চাপ তৈরি এবং তেলের বাজারে ইরানের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকে পরাজিত করে দ্রুতগতির অভিযানের মাধ্যমে লোহিত সাগরের পুরো উপকূলীয় এলাকা দখল করেছে।

সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রধান সমর্থক। হুতিরা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, সৌদি আরবের মালিকানাধীন জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.