ডার্ক ওয়েবের সঙ্গে কেন মেলানো যাবে না টরকে: নেপথ্যে চমকপ্রদ ইতিহাস
- Details
- by বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
ইন্টারনেটে নজরদারি ও ট্র্যাকিংয়ের যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনলাইন পরিচয় গোপন রাখার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে দ্য অনিয়ন রাউটার বা টর। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অবস্থান ও তথ্যের আদান-প্রদান গোপন রাখতে এই বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আজ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উন্মুক্ত যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার তাগিদ থেকেই মূলত এই প্রযুক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অনেকের কাছে এটি ডার্ক ওয়েবের সমার্থক হিসেবে পরিচিত হলেও প্রযুক্তিগতভাবে টর কেবল একটি গোপনীয়তা-কেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো। এর মাধ্যমে সাধারণ ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ডট অনিয়ন (.onion) ভিত্তিক বিশেষ কিছু সেবায় প্রবেশ করা যায়, যার একটি অংশকে প্রচলিত ভাষায় ডার্ক ওয়েব বলা হয়। ফলে পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখার সুবিধার কারণে একদিকে যেমন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও মুক্তমতের মানুষেরা সেন্সরশিপ এড়াতে এটি ব্যবহার করছেন, তেমনি অন্যদিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও এর অপব্যবহারের নজির রয়েছে। এই দ্বিমুখী ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তিটি ঘিরে গোপনীয়তা বনাম আইন প্রয়োগের বিতর্ক চলছে।
অথচ টরের এই বৈশ্বিক যাত্রার সূচনা সাধারণ নাগরিকদের জন্য হয়নি। নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গবেষণা সংস্থার গবেষক ডেভিড গোল্ডশ্লাগ, মাইক রিড এবং পল সাইভারসন নিরাপদ সামরিক যোগাযোগের উদ্দেশ্যে অনিয়ন রাউটিং নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বার্তার ভেতরের তথ্যের পাশাপাশি প্রেরক ও প্রাপকের মেটাডেটা বা পরিচয়সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সুরক্ষিত রাখা। ইন্টারনেটে বার্তা এনক্রিপ্ট করা থাকলেও মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব, যা সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছিল।
এই নিরাপত্তাঝুঁকি দূর করতেই অনিয়ন রাউটিং ধারণার জন্ম হয়। এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ট্রাফিক সরাসরি নির্দিষ্ট ঠিকানায় না পাঠিয়ে একাধিক মধ্যবর্তী রিলে বা সার্ভারের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়। তথ্যের বিভিন্ন স্তর এমনভাবে সাজানো থাকে, যা পেঁয়াজের খোসার মতো একটার পর একটা স্তরে উন্মুক্ত হয়। ফলে কোনো একক মধ্যবর্তী সার্ভারের পক্ষে প্রেরকের আসল অবস্থান এবং চূড়ান্ত গন্তব্য একসঙ্গে জানা সম্ভব হয় না।
সামরিক পর্যায়ে উদ্ভাবিত হলেও এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রয়োজন ছিল একটি বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় ব্যবহারকারী দলের। গবেষকেরা বুঝতে পারেন, কেবল সরকারি বা সামরিক ব্যক্তিরা এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে তাদের ট্রাফিক আলাদাভাবে নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারে। এই বাস্তবতায় সামরিক গবেষকদের সঙ্গে যুক্ত হন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও সাইফারপাঙ্ক আন্দোলনের প্রযুক্তিবিদেরা। ১৯৯৭ সালে ওকল্যান্ডের একটি কর্মশালাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার পর এই প্রযুক্তি গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে ডিজিটাল স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.