ব্রিটিশ দূত: ইসরায়েল নীতিতে পরিবর্তন আনছে যুক্তরাজ্য
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলের প্রতি নিজেদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করছে যুক্তরাজ্য। আঙ্কারায় নিযুক্ত নতুন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেনিফার এলিজাবেথ অ্যান্ডারসন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ চলতে থাকায় যুক্তরাজ্য আর নীরব ভূমিকা পালন করবে না।

আনাদোলু এজেন্সিকে তুর্কি ভাষায় দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডারসন এই মন্তব্য করেন। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন এবং চলতি মাসেই আঙ্কারায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি আঙ্কারায় ব্রিটিশ দূতাবাসের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তুরস্কে আগের দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণা করে অ্যান্ডারসন জানান, তুরস্ক সব সময়ই তার হৃদয়ে ছিল এবং সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরও তিনি দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। পরবর্তীতে তিনি কনস্যুলার ও ক্রাইসিস অপারেশনস বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালে কাহরামানমারাসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় তিনি যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আঙ্কারায় ফিরে আসার অনুভূতি প্রকাশ করে অ্যান্ডারসন বলেন, চানকায়ায় রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বসবাস করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন এবং তিনি তুনালি হিলমি অ্যাভিনিউ ও উলুসের মতো এলাকাগুলোর সঙ্গে বেশ পরিচিত। তুরস্কে পূর্ববর্তী দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তুর্কি ভাষা শিখেছিলেন এবং সেই সুযোগে তুর্কি সংবাদপত্র পড়তেন ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখতেন।
অ্যান্ডারসন জানান, তিনি আঙ্কারাকে ভালোবাসেন এবং এই শহরে বাস করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে তুর্কি ভাষার নানা প্রবাদ ও বাগধারা তাকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। অটোমান আমলের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় বলে ‘কুশ উচমাজ কেরভান গেচমেজ’ (যেখানে পাখিও ওড়ে না, কাফেলাও যায় না) এবং ‘আইনি তাস আইনি হামাম’ (সেই পুরোনো গল্প)-এর মতো অভিব্যক্তিগুলোকে তার কাছে বেশ রোমান্টিক মনে হয়।
তুর্কি খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার প্রিয় খাবার হলো কারালাহানা সারমাসি (বাঁধাকপি পাতার রোল)। কারণ একবার পরিবারের সঙ্গে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ছুটি কাটানোর সময় আমি এটি খেয়েছিলাম। একইভাবে সন্তানদের নিয়ে গাজিয়ানতেপ ভ্রমণের সময় আমি সবচেয়ে সুস্বাদু মিষ্টান্ন কাতমের খেয়েছিলাম।’
উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল্যায়ন করে অ্যান্ডারসন বলেন, তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত এবং এটি দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ এপ্রিলে কৌশলগত অংশীদারিত্ব কাঠামো এবং জুলাইয়ে একটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করেছে।
তিনি জানান, তিনি যখন প্রথম তুরস্কে এসেছিলেন তখন দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড (২ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার), যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৬০ কোটি পাউন্ডে (৩ হাজার ৮৫৯ কোটি ডলার)।
যুক্তরাজ্য থেকে তুরস্কে পর্যটক আগমনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০ সালে প্রায় ১৭ লাখ ব্রিটিশ পর্যটক তুরস্ক সফর করেছিলেন, যেখানে চলতি বছর সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৪ লাখে। নতুন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে এই অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি বদ্ধপরিকর।
অ্যান্ডারসন তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যকে ন্যাটোর দুটি শীর্ষস্থানীয় মিত্র হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক মূল কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সময় স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তিটি সব খাতে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে উভয় দেশের দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে ও কানাডাসহ ১২টি দেশের যৌথ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করছে। গাজা এবং পশ্চিম তীরে চরম মানবিক দুর্ভোগ চলছে, যা কোনোভাবেই এভাবে চলতে পারে না। এমন দুর্ভোগ চলতে থাকলে যুক্তরাজ্য নীরব থাকবে না। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পূর্ণ বাস্তবায়ন ব্রিটিশ সরকারের একটি মৌলিক নীতি। আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ফিলিস্তিন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে অ্যান্ডারসন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডি-৮ জোটের দেওয়া বিবৃতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেমনটি বলেছে, আমরাও এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপন ঠেকাতে এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে সমর্থন জানাতে যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘হ্যাঁ। পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি রোধ করতে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে এগিয়ে নিতেই এই নতুন পদক্ষেপগুলো ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ইসরায়েলি সরকারের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই তাদের মূল্যায়ন করে যাব। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে আমরা একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করছি।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.