আপনি পড়ছেন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য একটি নতুন ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠন এবং জোটজুড়ে জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল চালুর আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। যেকোনো সদস্যদেশে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সব দেশের জরুরি বৈঠকের বাধ্যবাধকতা থাকবে এই ব্যবস্থার অধীনে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে বুধবার তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তা পরিষদ ও জরুরি প্রটোকলের আহ্বান ইইউ প্রধানের
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কথিত ‘হাইব্রিড’ বা বহুমুখী হুমকির প্রেক্ষাপটে ভন ডার লিয়েন বলেন, পরিবর্তিত হুমকি মোকাবেলায় ইউরোপের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যাপ্ত নয়।

তিনি বলেন, ইইউর নিজস্ব একটি ‘হাইব্রিড-বিরোধী কর্মপরিকল্পনা’ প্রয়োজন। সশস্ত্র আগ্রাসনের পর্যায়ে না পৌঁছালেও যেসব ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে, সেগুলোর জবাব কীভাবে দেওয়া হবে—তা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।

ন্যাটোর ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (যেখানে কোনো সদস্য হুমকি অনুভব করলে সবাই আলোচনায় বসে) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইউরোপের নিজস্ব অনুচ্ছেদ ৪ বা একটি জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল চালুর এখনই সময়।’

ভন ডার লিয়েনের মতে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র উদ্যোগ নিলে সব ইইউ দেশ সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বৈঠকে বসবে, যাতে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।

তিনি জানান, এই উদ্যোগ ন্যাটোর সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, কোনোভাবেই তার বিকল্প হবে না। উল্লেখ্য, ন্যাটোর অধিকাংশ সদস্যই ইইউর অন্তর্ভুক্ত।

মহাদেশটির বর্তমান ঝুঁকির ‘ধরন ও মাত্রা’ বিবেচনায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রস্তাবিত ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরার ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় ইইউ নেতাদের পাশাপাশি কানাডা, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মতো অংশীদারদের ইউরোপের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিতে একসঙ্গে আনা হবে।

গাজা ও পশ্চিম তীর প্রসঙ্গে ভন ডার লিয়েন বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা ইউরোপীয়দের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

পশ্চিম তীরে একটি পরিকল্পিত অবৈধ বসতি স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল সরকারের অবৈধ ই১ বসতি প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অতীতে ইউরোপকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু সমন্বিত পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপ যখন বিভক্ত থাকে, তখন এটি ঘটনার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে না।’

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপ ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার’ অধিকারকে সমর্থন করে এবং ফিলিস্তিনিদেরও সমানভাবে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখা ইউরোপের দায়িত্ব।’

অভিবাসন ও ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ভন ডার লিয়েন উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে জুলাইয়ের শেষভাগ থেকে হাজার হাজার অভিবাসী সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। বিভিন্ন ঘটনার ধরন আলাদা হলেও সেগুলোর মধ্যে কিছু সাধারণ মিল রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অসহায় মানুষদের ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, ইউরোপের শত্রুপক্ষও এসব অভিবাসনকে কাজে লাগাচ্ছে। মানবপাচারকারীদের লক্ষ্য করে ইইউ কমিশন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছে বলে তিনি জানান।

ভন ডার লিয়েন বলেন, গণ-অভিবাসন যখন ‘পরিকল্পিত ও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার’ করা হয়, তখন বহিরাগত সীমান্ত রক্ষার মতো সক্ষমতা ইউরোপের থাকা প্রয়োজন। তিনি একটি নতুন ইউরোপীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন, যা নির্দিষ্ট কিছু কঠোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে কার্যকর করা হবে। এই ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির আলোকে আদর্শ প্রক্রিয়ায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত শিথিলতার সুযোগ দেবে বলে তিনি জানান।

ইইউতে যোগদানে আগ্রহী সার্বিয়ার সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ভন ডার লিয়েন জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে বেলগ্রেডে (বসনিয়ান সার্ব সামরিক কমান্ডার রাতকো) ম্লাদিচের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবি দেখে আমি স্তব্ধ হয়েছি। তিনি মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করার কোনো স্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নে নেই।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.