আপনি পড়ছেন

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমোদনসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি আটকে যায়। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ছিল। খবর আল জাজিরার

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের প্রস্তাবে রাশিয়া-চীনের ভেটো
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ

গত বছর পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে কিংবা ওই চুক্তি লঙ্ঘন করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ভোটের পর নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানকে নিয়ে বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ড পারস্য উপসাগরীয় সংকটের সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে।

২০২৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও তা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল পুনর্বহাল করেছিল। প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও ছিল ওই প্যানেলের। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে ঐকমত্যও তৈরি হয়নি।

বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি দেশ নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়। পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। তবে রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়নি।

জাতিসংঘে ইরানের মিশন প্রস্তাবটির বিরোধিতা করায় রাশিয়া ও চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করে।

ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, রাশিয়া ও চীনের ধারাবাহিক, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান ও আজকের সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের জন্য ইরান গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা পরিষদকে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার আরেকটি ‘নিন্দনীয় প্রচেষ্টা’ তারা প্রতিহত করেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল করা হয়। সে সময় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা কার্যকর করে। এর ফলে ইরানের পরমাণু ও সামরিক কর্মসূচির ওপর আগে আরোপ করা নিরাপত্তা পরিষদের ছয়টি নিষেধাজ্ঞামূলক প্রস্তাব পুনরায় কার্যকর হয়।

ভোটের পর জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটা বলেন, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল না থাকলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পাওয়ার প্রধান উৎস থেকে নিরাপত্তা পরিষদ বঞ্চিত হবে। এতে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে, যা শুধু ইরান সরকার এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যারা লাভবান হয়, তাদেরই সুবিধা দেবে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ এসলামিকে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে বাধা দেয়। নিরাপত্তা পরিষদ এসলামির ওপর থাকা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আরোপ করা ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবেই এসলামির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এসলামি ও তার প্রতিনিধিদলকে পাঁচ দিনের ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সফর বাতিল করতে হয়েছে। কারণ অস্ট্রিয়া তার ভিসা বাতিল করে দেয়।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.