ব্যবসায়ীরা বলছেন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, সিলিন্ডার খুঁজে পাচ্ছেন না গ্রাহক
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই—সম্প্রতি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছিলেন আমদানিকারক ও অপারেটররা। তবে বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাহিদামতো এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহক ও খুচরা বিক্রেতারা। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত সেপ্টেম্বরের দাম অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সে হিসাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহককে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৯১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক গ্রাহক এলপিজি না পাওয়া এবং বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানান।
রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, শান্তিনগর, মালিবাগ ও কাঠালবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রামপুরার বাসিন্দা সাথী আক্তার বলেন, সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। দোকানদারের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।
শাহজাহানপুরের বাসিন্দা রুপনা আক্তার বলেন, নতুন বাসায় ওঠার পর থেকেই এলপিজি ব্যবহার করছেন। প্রতি মাসে দাম বাড়তে থাকায় সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎচালিত চুলায় যাওয়ার কথা ভাবলেও এতে বিদ্যুৎ বিল বাড়বে—ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সেটিও সহজ বিকল্প নয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা দেশে এলপিজির ঘাটতি নেই বলে মন্ত্রীকে জানান।
এর দুই দিন পর ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক অনলাইন সভায় মন্ত্রী দেশের কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
১ অক্টোবর এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবও জানায়, দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ১ দশমিক ৫৮ লাখ টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ দশমিক ৫৬ লাখ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কেউ বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পরিবহনে জাহাজের ভাড়া ও ট্রেডারদের প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে নতুন কার্গো আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এলপিজির দাম নির্ধারণের সময় জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার ধরে হিসাব করেছিল বিইআরসি। কিন্তু বর্তমানে এই খরচ বেড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে পৌঁছেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
তাদের ভাষ্য, বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়ে কার্গো আমদানি করলেও বিইআরসির নির্ধারিত দামে সেই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে আমদানিতে অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
বেসরকারি অপারেটর টিএমএসএস-এলপিজির এজিএম আনিসুর রহমান বলেন, তাদের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে আসার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে ১০ থেকে ১২ অক্টোবর হতে পারে। সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে কোম্পানিকে বাধ্য হয়ে সরবরাহে রেশনিং করতে হচ্ছে।
তার ভাষ্য, বিইআরসি যখন দাম নির্ধারণ করেছিল তখন যে প্রিমিয়াম ধরা হয়েছিল, বর্তমানে তা আর কার্যকর নেই। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষে দীর্ঘদিন লোকসান করে এলপিজি আমদানি করা কঠিন। তবে বাজারে এলপিজি একেবারে নেই—এমন ধারণাও সঠিক নয়।
খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, অপারেটররা ডিলারদের কাছে পণ্য দেওয়ার পর খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার বিক্রি হয়। সেখানে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা সবসময় অপারেটরদের পক্ষে নজরদারি করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে মনিটরিং প্রয়োজন।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলার ও পরিবেশকদের কাছ থেকে তারা আগের তুলনায় কম সিলিন্ডার পাচ্ছেন।
কাঠালবাগান বাজারের এক বিক্রেতা জানান, আগে ৫০০টি সিলিন্ডারের চাহিদা পাঠালে প্রায় পুরো পরিমাণই পাওয়া যেত। এখন সেই চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা জানানোর পর সিলিন্ডার পেতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পশ্চিম ধানমন্ডির এক এলপিজি ডিলারও সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে তাদের জানানো হচ্ছে।
এলপিজির সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে শনিবারও ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যেই বাজারে চলতি সপ্তাহে বিইআরসি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
প্রতি মাসের মতো এবারও নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হলে দাম বাড়তে পারে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি এবং চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভোক্তাদের দাবি, সংকট না থাকলে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না কেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.