উয়েফার তদন্তের মুখে বার্সেলোনা: কী হতে পারে পরিণতি
- Details
- by খেলাধুলা ডেস্ক
স্প্যানিশ রেফারিং কেলেঙ্কারি বা ‘নেগ্রেইরা মামলা’ নিয়ে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে বড় ধরনের নতুন নথিপত্র জমা দিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। এসব প্রমাণ ও তথ্য খতিয়ে দেখা হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের জমা দেওয়া নথিপত্রের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার পৃষ্ঠা, যার মধ্যে বিভিন্ন দলিল, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বয়ান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফাকে এই তদন্ত ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও দ্রুততার সঙ্গে’ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই নথিতে এমন সব ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যা সরাসরি টুর্নামেন্টের সততা এবং রেফারিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এর আগে মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ জানান, তারা উয়েফার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। সে সময় বার্সেলোনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনা আমার কাছ থেকে সাতটি লিগ শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে।’
এই নতুন অগ্রগতির ফলে স্পেনের সাবেক শীর্ষ রেফারিং কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্সেলোনার দেওয়া লাখ লাখ ইউরো লেনদেনের বিষয়টি আবারও তীব্র নজরদারির মুখে পড়েছে।
পুরো মামলাটি মূলত ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্সেলোনার ৭৩ লাখ ইউরো (প্রায় ৮৬ লাখ ডলার) লেনদেনকে কেন্দ্র করে। নেগ্রেইরা ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের টেকনিক্যাল কমিটি অব রেফারিজের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২০২৩ সালের মার্চে স্প্যানিশ কৌঁসুলিরা বার্সেলোনা ক্লাব, সাবেক দুই সভাপতি সান্দ্রো রোসেল ও জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ, সাবেক নির্বাহী অস্কার গ্রাউ, আলবার্ট সোলার এবং নেগ্রেইরার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নেগ্রেইরার সঙ্গে বার্সেলোনার একটি অত্যন্ত গোপনীয় মৌখিক চুক্তি ছিল। এর আওতায় অর্থের বিনিময়ে তিনি রেফারিদের সিদ্ধান্তে ক্লাবকে সুবিধা দেওয়ার এবং পরোক্ষভাবে ম্যাচের ফলাফল অনুকূলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতেন।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অন্যায্য ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক নথি জালিয়াতি। বার্সেলোনা অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করলেও যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্লাবের দাবি, রেফারি সংক্রান্ত বৈধ টেকনিক্যাল রিপোর্ট ও পরামর্শের জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ঘুষের অভিযোগ যুক্ত করা হলেও বার্সেলোনার একটি আদালত তা বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী নেগ্রেইরা কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন, তাই তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ঘুষের ধারাটি প্রযোজ্য নয়। তবে সামগ্রিক ফৌজদারি তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
স্পেনের ফৌজদারি প্রক্রিয়ার বাইরে ২০২৩ সালের মার্চেই নিজস্ব তদন্ত শুরু করে উয়েফা। এই অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বার্সেলোনা ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
তদন্ত শুরুর পরের মাসে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এই পরিস্থিতিকে ‘চরম গুরুতর’ হিসেবে আখ্যা দেন। ফুটবলে তার দেখা অন্যতম গুরুতর কেলেঙ্কারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উয়েফার এখতিয়ারে কোনো কিছুই তামাদি হয় না।’
উয়েফার নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শকেরা তদন্ত করছেন যে ক্লাবটি ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত বা সাজানোর মতো কোনো কার্যক্রমে জড়িত ছিল কি না, যা উয়েফার সততা নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বার্সেলোনাকে শর্তসাপেক্ষে ইউরোপীয় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলার অনুমতি দেওয়া হলেও ক্লাবটির যোগ্যতা নিয়ে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিজেদের হাতে রাখে সংস্থাটি। সেই তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদের জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র এখন পরিদর্শকেরা যাচাই করবেন।
পুরো প্রক্রিয়ায় বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে স্পেন ও উয়েফার পৃথক তদন্তের ফলাফলের ওপর। স্পেনের বিচারিক তদন্ত শেষে ফৌজদারি বিচার শুরু হতে পারে। এতে অপরাধ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কারাদণ্ড, জরিমানা ও পেশাগত নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারেন। অন্যদিকে আইনি সত্তা হিসেবে বার্সেলোনাকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
উয়েফার তদন্তের ফলে সরাসরি ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে বার্সেলোনাকে এক মৌসুমের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জরিমানা এবং টুর্নামেন্ট থেকে অর্জিত রাজস্ব আটকে দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে। চূড়ান্ত যেকোনো পদক্ষেপই নির্ভর করবে উয়েফার তদন্ত প্রতিবেদন এবং তাদের নীতিমালা লঙ্ঘনের মাত্রার ওপর।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.