আপনি পড়ছেন

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশের পাশাপাশি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে একক গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিতে পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপিত ১৩ দফার এই রূপরেখায় আদালতের রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় স্থগিত করার প্রবণতা ঠেকাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সমন্বয়ের আইনি উদ্যোগসহ আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। আজ সোমবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শীর্ষ ঋণখেলাপিদের নজরে রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক

আইনি প্রভাব পর্যালোচনা করে সাধারণ ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের ব্যাংক খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কিছু অংশ সাধারণ খেলাপিদের ওপর কার্যকরে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোনো একক গ্রাহক যাতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সীমাহীন ঋণ নিতে না পারেন, সেজন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা জুড়ে ঋণসীমা নির্দিষ্ট করা হবে। এছাড়া ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি তহবিলের প্রয়োজনে সরাসরি ব্যাংক ঋণের বদলে বন্ড ইস্যুর নির্দেশনা দেওয়া এবং বেসরকারি খাতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনে আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইনি পরিকাঠামো জোরদারে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০২৬’, অর্থঋণ আদালত আইনের সংশোধন, দেউলিয়া আইনের স্থলে ‘ইনসলভেনসি অ্যান্ড ব্যাংকরাপসি আইন’ প্রণয়ন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি বা রিস্ক-বেজড সুপারভিশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার আদায় পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি প্রান্তিকে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতরণ করা ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় এই সংস্কার রূপরেখা গ্রহণ করা হয়। এটি মোট বকেয়া ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বিপরীতে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায়। ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার বিপরীতে সংস্থান রয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা।

গত মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত নেমে এসেছে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশে, যেখানে ব্যাসেল-৩ মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম সাড়ে ১২ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। দেশের ১৫টি ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে, যার মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মূলধন অনুপাত ঋণাত্মক ৪৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া ২২টি ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকায়।

সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা জোগান দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৫ হাজার ৮১০ কোটি, এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার ৮৪২ কোটি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে। তবে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট নেই উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাতের অতিরিক্ত হিসেবে বাজারে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত রয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.