গৌতম গম্ভীর: বোলারদের ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকিতে
সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। বোলারদের জন্য কোনো সহায়তা না থাকা এমন উইকেটে তাদের ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাঁচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৫০ রান করেও রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পক্ষকালের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এমন উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতীয় কোচ।

ছোট মাঠ, ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট ও শিশিরের কারণে রাঁচির ম্যাচে ৩৮ দশমিক ৩ ওভারে দুই দল মিলিয়ে ৫০১ রান ও ৩৩টি ছক্কা হাঁকায়। শেষ পর্যন্ত ৯ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯ বল হাতে রেখে ভারতের ৪০৬ রান তাড়া করার পরও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন গম্ভীর।
উইকেটের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে গম্ভীর বলেন, ‘আপনারা কি ব্যাট ও বলের ভালো লড়াই দেখতে চান না? আপনারা যা দেখতে চান, আমরাও সেটাই দেখতে চাই। আমরাও চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বোলাররা তো আমাদেরই, অন্য কারও নয়। তাদের ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এই ড্রেসিংরুমে জায়গা পেতে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। প্রতিযোগিতা সমানে সমান হলে ক্রিকেট আরও উপভোগ্য হবে।’
ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ওভারেই ৫ রানে ২ উইকেট এবং ষষ্ঠ ওভারের মধ্যে ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতে চাপে পড়েছিল। তবে সাই হোপের ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের ৩৭ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ভর করে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরায় তারা।
প্রতিকূল কন্ডিশন থাকা সত্ত্বেও দলের এই ব্যর্থতা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার কথা জানান ভারতীয় কোচ। যেকোনো পরাজয়কে হালকাভাবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে গম্ভীর জানান, দল হিসেবে ধারাবাহিক উন্নতি বজায় রাখতে চাইলে কোনো ব্যর্থতাই আড়াল করা সমীচীন নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, তাই আমাদের প্রতিনিয়ত উন্নতি করে যেতে হবে। বল করার জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত কঠিন কন্ডিশন ছিল। আমরা জানি ফ্ল্যাট উইকেটের সঙ্গে শিশির থাকলে পরিস্থিতি বোলারদের জন্য কঠিন হয়, তবে আমাদের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন প্রথম ওভারে দুই উইকেট এবং পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল।’ প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। সাই হোপ ও শেরফেন যেভাবে ব্যাট করেছে তা অসাধারণ। আমরা জানি এই সংস্করণে তারা বিশ্বমানের ব্যাটার। আমাদের জন্য কাজটা কঠিন ছিল, তবে আমরা শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাব।’
ম্যাচে বল হাতে ভারতের একমাত্র স্বস্তির দিক ছিল মায়াঙ্ক যাদবের শুরুর স্পেল। তিন ওভারে ৩৬ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নেন। নিয়মিত প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করার পাশাপাশি রোভম্যান পাওয়েলকে বোল্ড করার বলটির গতি ছিল ১৪৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার। প্রথম ওভারে তার গতির মুখে পড়েই ক্যাচ তুলে দেন কামিল পুরান এবং পরের বলেই বোল্ড হন শিমরন হেটমায়ার।
লখনউতে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গতির বৈচিত্র্য আনলেও রাঁচিতে নিজের মূল শক্তি অর্থাৎ গতির ওপর নির্ভর করায় মায়াঙ্কের প্রশংসা করেন গম্ভীর। পেসার হিসেবে মায়াঙ্কের ভূমিকা তুলে ধরে গম্ভীর বলেন, ‘সে একজন ফাস্ট বোলার, তার ফাস্ট বোলারের মতোই বল করা উচিত। সে কোনো ধীরগতির বোলার নয়। আপনি যদি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারে বল করতে পারেন, তবে সেটাই করুন; আর ১২০ কিলোমিটার গতি থাকলে সেটাই করুন। যখন আপনি ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলবেন, তখন জোরে বল করাই আপনার দায়িত্ব। সে আজ সেটাই করেছে এবং সাফল্য পেয়েছে।’
শুরুর সেই চাপ অবশ্য ধরে রাখতে পারেনি ভারত। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রান যোগ করেন হোপ ও রাদারফোর্ড। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসে সহজ জয় পায় সফরকারীরা।
ম্যাচ প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেন, ‘প্রথম ওভারেই যে ম্যাচ শেষ হয়ে যায় না, তা বোঝার মতো ক্রিকেট আমি খেলেছি। তারা একটি শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি দল এবং আমরা তাদের সম্মান করি। আমরা জানি তারা কতটা বিপজ্জনক। ৪০ ওভারজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেই কেবল একটি ক্রিকেট ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
শুরুর বিপর্যয় সামলে শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে ম্যাচ জেতানোয় হোপের ভূয়সী প্রশংসা করেন গম্ভীর। চলতি সফরে নিজের শেষ চার ম্যাচে হোপের সংগ্রহ যথাক্রমে ১০৪, অপরাজিত ১৬২, ৫২ ও অপরাজিত ১০২ রান।
হোপ প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেন, ‘সাই একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার। সাদা বলের ক্রিকেটে সে যা করেছে, শুধু ৫০ ওভারের ম্যাচেই নয়, এই সংস্করণেও তার অবদানের জন্য আমরা তাকে সম্মান করি। তার পরিসংখ্যানই তার হয়ে কথা বলে। বিশেষ করে প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর সে যা করেছে তা দারুণ। ফ্ল্যাট উইকেট এবং শিশিরের মধ্যে শেরফেনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি ওভারে ১২-র বেশি রান রেট বজায় রেখে খেলা তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করে। সে দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছে।’
ভারতের ব্যাটিং ইনিংসে ১২ থেকে ১৬ ওভার পর্যন্ত সময়ে মাত্র ৩৯ রান আসে। এ সময় শ্রেয়াস আইয়ারের আগে শিবম দুবেকে চার নম্বরে নামানো হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ব্যাটিং অর্ডারের নমনীয়তার কথা তুলে ধরেন গম্ভীর।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ব্যবহার করে আসছি, এমনকি বিশ্বকাপেও এমন ভূমিকা ছিল। এটি আজকের কোনো বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা হয়তো আজ ছন্দ হারিয়েছি, কিন্তু এর আগে সে চারে নেমে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে আমাদের বড় সুবিধা এনে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, কখনও পরিকল্পনা কাজে আসবে, কখনও আসবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমাদের ব্যাটিং অর্ডারে আমরা সব সময়ই নমনীয় এবং এটি অব্যাহত থাকবে। আমি আগেই বলেছি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু ওপেনারদের জায়গাই নির্ধারিত থাকে।’
সবশেষে গম্ভীর বলেন, ‘মূল কথা হলো আমরা ২৫০ রান ডিফেন্ড করতে পারিনি। তারা অসাধারণ ব্যাট করেছে এবং জয়ের যোগ্য ছিল। এমন বিপজ্জনক দলের বিপক্ষে খেললে, বিশেষ করে টস হারলে আরও অনেক পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে।’
সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইন্দোরে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.