আপনি পড়ছেন

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন সচিবালয় ঘিরে চক্রাকার সড়ক, সংযোগ সড়ক এবং পাতালপথ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা
শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত বুধবার অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্থাপত্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিনটি নকশা উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একটি নকশার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সেই নকশার ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরদিন সচিবালয় স্থানান্তরের প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয় কোথায় স্থানান্তর করা যায়, তা নিয়ে গত পাঁচ মাসে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকল্পের প্রতিবেদন ও সম্ভাব্য নকশা তুলে ধরা হয়।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য আরও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বৈঠকে উপস্থাপিত তিনটি নকশার মধ্য থেকে একটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। ওই নকশার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করা হবে। নকশাগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকেও উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ের ভবনগুলো হবে ১২ তলা। প্রতিটি ভবনের নকশায় জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের পাশাপাশি আশপাশের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় সচিবালয় ঘিরে চক্রাকার সড়ক নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিয়ে একটি নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর—সাবেক গণভবন—সংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করে মিরপুর সড়কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

তবে এ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ওই এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। সড়ক নির্মাণের জন্য এসব স্থাপনা সরানোর প্রয়োজন হবে কি না, তা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে নির্ধারণ করতে হবে।

বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুরের দিকে যাওয়া সড়কের নিচ দিয়ে একটি পাতালপথ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ওপরের সড়ক দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ এবং নিচের পথ দিয়ে মিরপুর সড়কের দিকে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ জন্য পৃথক প্রকল্প নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নতুন নয়। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এ উদ্দেশ্যে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়েছিল। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জিয়া উদ্যানের উত্তর দিকে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে প্রায় ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবন নির্মাণের কথাও বলা হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

পরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিবর্তে রাজধানীর আবদুল গনি রোডে বর্তমান সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা একটি ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। গত ২৬ এপ্রিল একনেকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ওই সভায় সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে যানজটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁও এলাকায় ইতিমধ্যে অনেক সরকারি কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেখানে নতুন করে সচিবালয় স্থাপিত হলে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে, ১৯৬৯ সালে প্রণীত লুই আই কানের মূল নকশার আলোকে ২০২৬ সালে এসে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্রের জন্য ভিন্ন স্থান বিবেচনা করা যেতে পারে। শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁওয়ে যানবাহনের চাপ আগে থেকেই বেশি হওয়ায় সেখানে নতুন সচিবালয় হলে যানজট আরও তীব্র হতে পারে।

অন্যদিকে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের মতে, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকায় ভবিষ্যতে জায়গাটির দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে সরকারি কাজে জমিটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

২০২১ সালে বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়। এরপর পুরোনো মাঠে পার্ক নির্মাণের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় সমস্যা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সচিবালয় ঘিরে যানজটের কারণে কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয়।

বর্তমান সচিবালয়ের আয়তন প্রায় ১৭ লাখ বর্গফুট। প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়ে জায়গার পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট হতে পারে। স্থানান্তর সম্পন্ন হলে বর্তমান সচিবালয়ের ভবনগুলোতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব পরিকল্পনা এখনো প্রক্রিয়াধীন। নতুন সচিবালয়ের প্রকল্প অনুমোদন, চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ এবং বর্তমান সচিবালয়ের ভবিষ্যৎ ব্যবহার—সব বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.