আপনি পড়ছেন

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কনটেইনারের ডেমারেজ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের ক্রমবর্ধমান সুদের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন আমদানিকারকেরা। দিনের পর দিন চলতি মূলধন আটকে থাকায় ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। আজ সোমবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দেরি, কনটেইনারপ্রতি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ৪৮ ডলার
চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাম্প্রতিক 'টাইম রিলিজ স্টাডি'র (টিআরএস) তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে একটি জাহাজের পণ্য খালাস সম্পন্ন হতে গড়ে ১১ দিন ৬ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। বন্দরে চার দিনের ছাড়পত্র মেয়াদের পর পরবর্তী সাত দিনে প্রতি টিইইউ কনটেইনারে দৈনিক ৬ দশমিক ৯০ ডলার মাশুল দিতে হয়। এতে ১১ দিনে ডেমারেজ বাবদ মোট ৪৮ দশমিক ৩০ ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৯৬৫ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে প্রতি কনটেইনারে কেবল ডেমারেজ খরচই দাঁড়াচ্ছে ৬ হাজার ৮৬০ টাকা। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনায় দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত এক খসড়া দলিলের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এই অদক্ষতা ও বিলম্বের কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

আমদানিকারক ইয়াসির আরাফাত উল্লেখ করেন, বন্দরে পণ্য আটকে থাকার ফলে শুধু ডেমারেজ ফি বাড়ছে না, বরং প্রতিটি দিনের জন্য ব্যাংক ঋণের বিপরীতে সুদের অঙ্কও চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের এই অতিরিক্ত ব্যয় আমদানিকারকেরা বিক্রয়মূল্যের সাথে সমন্বয় করায় সাধারণ ভোক্তার ওপর সরাসরি বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

টিআরএস প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পণ্য খালাসের মোট সময়ের ৭৫ শতাংশ ব্যয় হয় আমদানিকারক ও তাদের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের প্রক্রিয়ায়। বাকি সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয় ১৪ শতাংশ, কাস্টমস হাউসের মূল্যায়নে যায় ৮ শতাংশ, অন্যান্য সনদ প্রদানকারী সংস্থায় ২ শতাংশ এবং শিপিং এজেন্টদের লাগে ১ শতাংশ। কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি দাখিলের আগেই বাণিজ্যিক নথি প্রস্তুত ও ছাড়পত্র সংগ্রহে বড় সময় চলে যায়। জাহাজ আগমনের পর কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ও খালাস প্রক্রিয়ায় লাগে বাকি ৫ দশমিক ৮ দিন। দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিচালনাকারী চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব সংগ্রহ ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরের ৬ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দপ্তরটি দৈনিক গড়ে ২ হাজার ২০৫টি বিল অব এন্ট্রি প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় ২২৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করে থাকে।

পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিল্পযন্ত্রপাতি খালাসে গড়ে ১৩ দশমিক ৩ দিন, খেলনা জাতীয় পণ্যে ১১ দশমিক ৬ দিন এবং খাদ্যপণ্যে ১১ দশমিক ১ দিন সময় লাগে। যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্টের 'ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট' (আইজিএম) দাখিল ও সিঅ্যান্ডএফের বিল অব এন্ট্রি জমার মধ্যবর্তী সময়েই চলে যায় ৭ দশমিক ৫ দিন, যা মোট মেয়াদের ৫৬ শতাংশের বেশি। তবে হিসাবের ভিত্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, জাহাজ জলসীমায় আসার আগেই আইজিএম জমা দেওয়া হয়, তাই পণ্য খালাসের সময় গণনা জাহাজ নোঙর বা পণ্য নামার পর থেকে শুরু করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক সব অংশীজনকে নিয়ে বসে টেকসই সমাধানের আহ্বান জানান।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, জমা পড়া বিল অব এন্ট্রির ৭৭ শতাংশ ১ দিনের মধ্যে এবং ৮৮ থেকে ৯০ শতাংশ ৩ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে। আমদানিকারকদের শ্লথগতির কারণে কাস্টমস আইন ২০২৩-এর ৮৪ ধারা দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি, যেখানে পণ্য খালাসের ৫ দিনের মধ্যে আমদানির ঘোষণাপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, রেড চ্যানেলে কায়িক পরীক্ষার জন্য যাওয়া ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ পণ্য খালাসে গড়ে ১৯ দিন ২৩ ঘণ্টা লাগলেও নথিপত্র যাচাইয়ের ইয়েলো চ্যানেলে থাকা ৯১ দশমিক ০১ শতাংশ চালানে সময় লাগে গড়ে ১০ দিন ২০ ঘণ্টা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩২টি কনটেইনার স্ক্যান করে ১৯৯টিতে সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত হয় এবং কায়িক পরীক্ষায় ৮১টিতে অনিয়ম ধরা পড়ে। ডব্লিউসিও নির্দেশিত পদ্ধতিতে পরিচালিত গবেষণার সুপারিশ অনুযায়ী, জাহাজ আসার আগেই 'প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং' বাধ্যতামূলক করা, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর ব্যবস্থা বিস্তার এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু করা গেলে পণ্য খালাসের সার্বিক সময় ১১ দিন থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.