আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ধাক্কা সামলে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যানফিল্ডের তীব্র বৈরী পরিবেশে স্বাগতিক লিভারপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান সুসংহত করেছে দলটি। তবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে প্রিমিয়ার লিগের এই অনিশ্চিত মৌসুমে মাঠের এই জয় শেষ পর্যন্ত কতটা গুরুত্ব বহন করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অনিশ্চিত মৌসুমে ম্যান সিটির বড় জয়েও কাটেনি শঙ্কা
অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের পর উল্লাসরত আর্লিং হালান্ড

২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটিই ছিল ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ম্যাচ। ভাগ্য আর সূচির ফেরে ম্যাচটি এমন এক মাঠে অনুষ্ঠিত হলো, যেখানকার সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ। কারণ, ২০১৩-১৪, ২০১৮-১৯ এবং ২০২১-২২ মৌসুমে সিটির ঠিক পেছনে থেকে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল অলরেডদের।

লিভারপুল সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, আবুধাবি-ভিত্তিক মালিকদের বিপুল অর্থ এবং বিতর্কিত আর্থিক কৌশলের অবৈধ সুবিধা না পেলে ওই লিগ শিরোপাগুলো তাদের ঘরেই উঠত।

এমন উত্তপ্ত বাস্তবতায় তুমুল উত্তেজনা আর ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা অ্যানফিল্ডে খেলতে নামে সিটি। প্রতিপক্ষের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে প্রস্তুত লিভারপুল সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে অ্যান্দোনি ইরাওলার দলকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা।

ভিন্ন কোনো সময়ে বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সিটির এমন জয়কে বিবেচনা করা হতো খাঁটি চ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স হিসেবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধান বাড়িয়ে প্রতিপক্ষদের কড়া বার্তাও দিয়ে রাখা যেত। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বিষয়টি ততটা সরল নয়।

অ্যানফিল্ডের গ্যালারির গর্জন ও ক্লাবের ওপর বয়ে যাওয়া ঝড়কে পাশ কাটিয়ে সিটির ফুটবলাররা যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা ছিল এক পরাবাস্তব দৃশ্য। অতীতে পেপ গার্দিওলা এবং ইয়ুর্গেন ক্লপের সময়ে দুই দলের লড়াই ঘিরে যে চরম উত্তেজনা থাকত, বর্তমান বাস্তবতায় সেই চিরচেনা রোমাঞ্চ যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।

নিঃসন্দেহে এটি ছিল সিটির শক্তি প্রদর্শনের ম্যাচ এবং রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর তারা বুনো উল্লাসে মাতে। কিন্তু ক্লাবটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন কিংবা রেকর্ড পরিমাণ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মতো শাস্তির সম্ভাবনার মুখে এই জয়ের আদৌ কোনো স্থায়িত্ব থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

গ্যালারিতে থাকা বাবা আলফ-ইঙ্গেসহ ক্লাবের সমর্থকদের সামনে আর্লিং হালান্ড যখন প্রায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রধান কোচ এনজো মারেস্কা মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে জয় উদযাপন করছিলেন, ঠিক তখনই খোঁচা দিতে অ্যানফিল্ডের লাউডস্পিকারে ফ্লিটউড ম্যাকের ‘লিটল লাইস’ গানটি বাজিয়ে দেন স্টেডিয়ামের ডিজে।

মারেস্কা বলেন, ‘আমরা জানতাম মাঠের বাইরে আলোচনা হবে, তবে ম্যাচ জিতেই আমাদের নিজস্ব আওয়াজ তোলা প্রয়োজন ছিল। বাইরের আলোচনা কীভাবে সামলাতে হয় তা আমাদের শিখতে হবে, তবে মূল বার্তা হলো জয় তুলে নেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য কাজটা বেশ সহজ। যেসব বিষয় আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি। যা আমার হাতে নেই, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করি না। ফুটবলের বাইরের কোনো কিছু আমি বদলাতে পারব না, তবে অযথা কেন চাপ নেব? আমি কেবল পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন অনুশীলন নিয়ে ভাবি, বাকি বিষয়গুলো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।’

হালান্ড বলেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিটি সদস্য এবং ভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি মুহূর্ত, যা দীর্ঘ সময় মনে থাকবে। ম্যাচটি ভীষণ কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা অসাধারণ চরিত্র প্রদর্শন করেছি। দলের সবাইকে নিয়ে আমি গর্বিত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘অ্যানফিল্ডে এসে খেলা সবসময়ই কঠিন। ইতিহাস দেখলেই তা পরিষ্কার বোঝা যায়। পেপ গার্দিওলা এবং ইয়ুর্গেন ক্লপের জমানাতেও দুই দলের লড়াই সবসময় ভীষণ তীব্র ছিল। মানসিকভাবে শক্ত থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং যে বিষয়গুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আছে তা সঠিকভাবে করাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের একমাত্র করণীয় হলো ভালো ফুটবল খেলা এবং দল হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’

শাস্তির রায়ের বিরুদ্ধে সিটি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আপিল করেছে। তবে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুম ঝুলন্ত অবস্থাতেই থাকবে। অ্যানফিল্ডের মাঠে সিটির এমন কর্তৃত্বপূর্ণ জয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ ছিল না। তবে বর্তমান অনিশ্চয়তা সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি জয় কিংবা পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানের পাশে এক ধরনের সংশয়ের ছায়া থেকেই যাবে।

মাঠে অবশ্য খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে হালান্ড, জেরেমি ডোকু এবং রায়ান চেরকির গোলে সহজ জয় নিশ্চিত হয়। তবে সিটির ওপর যে কালো মেঘ জমেছে, তা থেকে সহজে রেহাই মিলছে না। প্রতিটি জয়ের পরই এই একই অস্বস্তি প্রিমিয়ার লিগের সামগ্রিক আকর্ষণকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অ্যানফিল্ডে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ পথ ছেড়ে কর্মী ও ঠিকাদারদের প্রবেশপথ ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে সিটি দল। স্টেডিয়ামের বাইরে দুই দলের লোগো সংবলিত স্কার্ফে সিটির আকাশী নীল অংশে ব্যঙ্গ করে লেখা ছিল: ‘শ্যামচেস্টার সিটি - দ্য চিটস’।

একাদশ ঘোষণার সময় সিটির খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামে টাঙানো ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল—‘একটি প্রজন্মের সমর্থকদের ঠকানো হয়েছে’, ‘তোমরা আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছ’ এবং গ্যালারিতে উপস্থিত পপ তারকা নোয়েল গ্যালাঘারের বিখ্যাত গানের অনুকরণে লেখা ‘তোমাদের সব তারকারাই একে একে নিভে যাচ্ছে’। ভিআইপি বক্সে বসে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানো নিরুত্তাপভাবে এসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.