আপনি পড়ছেন

ইউরোপের সুপারশপগুলোর হিমায়ন ব্যবস্থা এবং খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল লক্ষ্য করে একের পর এক সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। আকস্মিক এসব হামলায় খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় খুচরা বিক্রেতা ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের একাধিক শীর্ষ সুপারশপ নেটওয়ার্কে সম্প্রতি এ ধরনের অচলাবস্থা দেখা দেয়।

ইউরোপে সাইবার হামলায় বিপাকে সুপারশপের খাদ্য সরবরাহ
একটি সুপারশপের খাদ্য পণ্যের হিমায়িত তাক এবং অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে মনিটর

সাধারণত সুপারশপের ফাঁকা তাক দেখলে কোনো দুর্যোগের আগে অতিরিক্ত কেনাকাটার হিড়িক কিংবা পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথাই মনে পড়ে। তবে হিমায়ন ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া একেবারেই বিরল একটি ঘটনা।

ফ্রান্সে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে, যেখানে হ্যাকাররা বেশ কয়েকটি শীর্ষ সুপারশপ চেইনের ব্যবহৃত ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পর হিমায়িত পণ্যের তাকগুলো খালি পড়ে থাকে। এই হামলার সময় হ্যাকাররা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিস্টেমগুলোর ডিফ্রস্ট বা বরফ গলানোর প্রক্রিয়া চালু করে দেয়। এতে তাপমাত্রা বেড়ে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা তাজা ও হিমায়িত খাদ্য মজুতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

ডেনমার্কের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ড্যানফস, মার্কিন প্রতিষ্ঠান কোপল্যান্ড এবং ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ডিক্সেল-এর তৈরি হিমায়ন ব্যবস্থাগুলো এই হামলার শিকার হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো নেটওয়ার্ক থেকে তাদের সরঞ্জাম বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে ব্যাপক খাদ্য অপচয় এবং সুপারশপের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়।

মঙ্গলবার ফরাসি পার্লামেন্টে দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর জানান, প্রায় ৭০০টি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র এই হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক তথ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সংখ্যা প্রায় ৫০০ বলে ধারণা করা হয়েছিল।

ফ্রান্স যখন এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করছিল, ঠিক তখনই নেদারল্যান্ডসে একটি পৃথক সাইবার ঘটনার খবর পাওয়া যায়। দেশটির বৃহত্তম সুপারশপ চেইন আলবার্ট হেইন সোমবার ঘোষণা করে, একটি সম্ভাব্য সাইবার হামলার চেষ্টার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ডিজিটাল ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়। এতে বেশ কয়েকটি বিতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া না গেলেও উভয় ঘটনাই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, খাবার তাজা রাখা এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সুপারশপগুলো যেসব অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে, সাইবার হামলার মাধ্যমে তা কতটা সহজে বিঘ্নিত করা সম্ভব।

ফরাসি সুপারশপ গ্রুপ ‘কো-অপারেটিভ ইউ’-এর প্রধান ডমিনিক শেলশার হিমায়ন ব্যবস্থায় এই হামলাকে নজিরবিহীন, অত্যন্ত গুরুতর এবং অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, তাজা পণ্য সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করা প্রকৃতপক্ষে ‘ফরাসি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একটি হামলা।’

বাস্তব বা সরাসরি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলার কারণে এই ঘটনাটি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিনাকটিভ-এর প্রকৌশলী কেভিন তেলিয়ার বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, ‘এটি প্রথম দিকের এমন একটি বড় আকারের সাইবার হামলা, যা সরাসরি ফরাসিদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছে।’

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস-এর থ্রেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রেফ পিলিং বলেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের ঘটনা দুটি খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ‘দুটি ভিন্ন কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ’ ঝুঁকির দিক উন্মোচন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফরাসি হামলা দেখিয়েছে কীভাবে একটি সাইবার অনুপ্রবেশ সরাসরি বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে, হিমায়ন ব্যবস্থা অচল করতে পারে এবং মজুত ধ্বংস করতে পারে।

অন্যদিকে ডাচ ঘটনাটি ডিজিটাল পরিষেবা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা সামনে এনেছে। পিলিং বলেন, ‘একত্রে এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে খুচরা ব্যবসায় সাইবার ঝুঁকি এখন কেবল কোনো প্রযুক্তিগত বা আইটি সমস্যা নয়, বরং এটি ব্যবসা টিকিয়ে রাখার ধারাবাহিকতার বিষয়।’

তেলিয়ার বলেন, ফরাসি ঘটনাটি দেখিয়েছে কীভাবে বিশেষ কোনো জটিল পদ্ধতি ছাড়াই একটি সাইবার হামলা সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটি খুব বেশি জটিল ছিল না, ১৫ বছর বয়সী কোনো কিশোরও এটি করতে পারত।’

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সীমিত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হামলাকারীদের সক্ষমতাও বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি চরম ক্ষতিকর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাল্পনিক দৃশ্যে খুব একটা বিশ্বাস করি না, বরং হামলাকারীরা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করছে বলেই মনে করি।’

পিলিং জানান, সরাসরি শারীরিক বা বাস্তব ক্ষতি করে এমন হামলা পুরো ইউরোপে সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে খুব সাধারণ না হলেও ফরাসি ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। তিনি বলেন, ‘ইউরোপজুড়ে আমরা অপারেশনাল প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সংযুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার দিকে আইনগত ও নিয়ন্ত্রক তদারকি বাড়তে দেখছি, যা বর্তমান হুমকি মোকাবিলার উপযোগী করে মূলত তৈরি করা হয়নি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকারগুলো বুঝতে পারছে যে এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সহনশীলতার বিষয়।’ পিলিং জানান, বাস্তব জগতে দৃশ্যমান প্রভাবের কারণেই ফরাসি ঘটনাটি ছিল অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘সাইবার জগত অতিক্রম করে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলা হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।’

এই ঘটনাগুলো সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার কোনো সুপরিকল্পিত কৌশল কি না—এমন প্রশ্নে পিলিং বলেন, এখনই এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘কারা এর পেছনে দায়ী বা তাদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা আমরা এখনো জানতে পারিনি।’ তিনি আরও জানান, খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং খুচরা কার্যক্রম সাধারণ নাগরিকদের টিকে থাকার মূল শক্তি, ফলে এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

বাস্তব জগতের ওপর এই ধরনের হামলার বড় প্রভাব পড়ার একটি মূল কারণ হলো এগুলো অপারেশনাল প্রযুক্তি বা ওটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মূলত হিমায়ন ও শিল্প যন্ত্রপাতিসহ ভৌত প্রক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারকেই অপারেশনাল প্রযুক্তি বলা হয়। তেলিয়ার জানান, প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে অপারেশনাল প্রযুক্তি প্রায়শই অবহেলিত থেকে গেছে এবং বিগত কয়েক দশক ধরে এটিকে ব্যাপকভাবে খাটো করে দেখা হয়েছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.