আপনি পড়ছেন

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে রাশিয়া। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বৈরিতা নিরসনে সম্প্রতি ইসলামাবাদ ও কাবুলে রুশ কর্মকর্তাদের পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পাকিস্তান-আফগান উত্তেজনা কমাতে পারবে কি রাশিয়া?
রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির

রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪ অক্টোবর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ। একই সময়ে রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের পরিচালক সের্গেই নারিশকিন কাবুলে গিয়ে তালেবানের গোয়েন্দা প্রধান আব্দুল হক ওয়াসিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এই বৈঠকগুলো নিয়ে রাশিয়া, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্ষিপ্ত বিবৃতির বাইরে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। তবে এর প্রেক্ষাপট বেশ স্পষ্ট। এক বছর ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পরস্পরকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। অক্টোবর মাসে দোহায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল এবং এপ্রিল মাসে চীনের উরুমকিতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত থাকে। এর জবাবে জুন ও সেপ্টেম্বর মাসের পর চলতি মাসেও আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায় ইসলামাবাদ।

এমন পরিস্থিতিতে এখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে আসছে রাশিয়া। আফগানিস্তান বিষয়ক রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি জমির কাবুলভ চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসকে জানান, উভয় পক্ষ চাইলে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে শান্তি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত মস্কো।

রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি মার্চ মাসে জানান, ইসলামাবাদ এ বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে তালেবান প্রকাশ্যে রাশিয়ার মধ্যস্থতার বিষয়ে কোনো অনুরোধ জানায়নি। ফলে যেখানে অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, সেখানে রাশিয়া কতটা কার্যকরভাবে দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে এক জটিল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রাশিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, রাওয়ালপিন্ডির বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে ওই বিবৃতিতে আফগানিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং রুশ কর্মকর্তা বা তালেবান কেউই গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যকার আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। অবশ্য চলমান লড়াই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মস্কো। কাবুলে অবস্থিত রুশ দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছে, ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যার ফলে শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউনামা) জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবরের মধ্যে চালানো পাকিস্তানি হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু।

কয়েক দশক আগেও পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে রাশিয়ার মধ্যস্থতার বিষয়টি ছিল অকল্পনীয়। পুরো স্নায়ুযুদ্ধ জুড়ে এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও মস্কো ছিল পাকিস্তানের বৈরী প্রতিবেশী ভারতের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও সামরিক অংশীদার। অন্যদিকে ১৯৯০-এর দশকে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইরত নর্দান অ্যালায়েন্সকে সমর্থন দিয়েছিল রাশিয়া।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও তালেবান উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে মস্কো। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর সময় মস্কোতে অবস্থান করছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আর গত বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া।

দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের বিকল্প সম্ভাবনা বৃদ্ধি, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের আফগান শাখা ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসান প্রভিন্স বা আইএসকেপির উত্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই মূলত নীতিতে এই পরিবর্তন এনেছে মস্কো। তালেবান শুধু আফগানিস্তান শাসনে মনোযোগী হলেও আইএসকেপির আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ২০২৪ সালে মস্কোয় এক বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে প্রায় ১৫০ মানুষকে হত্যা করে গোষ্ঠীটি। তালেবান ও আইএসকেপি পরস্পরের চরম শত্রু।

ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএসএসআই) গবেষক তৈমুর খান জানান, পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যকার সংঘাত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে মধ্য এশিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশ সহজ হতে পারে বলে মস্কো উদ্বিগ্ন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘মধ্যস্থতা মস্কোকে তার আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে এবং এমন কোনো শূন্যতা তৈরি না হতে সাহায্য করবে যা বাইরের শক্তির নতুন হস্তক্ষেপ ডেকে আনতে পারে।’

অক্টোবর মাসে দোহায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু পরের মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পুনরায় সংঘাত শুরু হয়। এরপর ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে উরুমকিতে আলোচনার আয়োজন করেছিল চীন।

সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন ইসলামাবাদ সফরের আগে কাবুল ও কান্দাহারে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাটে একটি হামলা ঘটে এবং পাকিস্তান ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায়।

ভূরাজনৈতিক দূরদৃষ্টি বিষয়ক সংস্থা নাইটিনগেল ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা প্রধান ও মধ্য এশিয়া বিশ্লেষক এলদানিজ গুসেইনভ আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অন্যান্য পক্ষগুলো দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে পেরেছে।’

এদিকে ৫ অক্টোবর মস্কোয় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে রাশিয়ার নিজস্ব উদ্যোগ হোঁচট খায়। তাসকে কাবুলভ জানান, ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর সঙ্গে বারবার আফগানিস্তানের নাম জড়ানোর বিষয়ে আপত্তি তুলেছে আফগান প্রতিনিধি দল।

৯ অক্টোবর এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ‘পাকিস্তানের জন্য এটি একটি বাস্তব নিরাপত্তা ইস্যু, নিছক কোনো শব্দগত বিষয় নয়।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.