আপনি পড়ছেন

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির ব্যয় সমন্বয়ের অংশ হিসেবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) কার্যক্রমে চাল ও আটার বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি মূল্যে এই দুই খাদ্যপণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

ওএমএসে চাল ও আটার বরাদ্দ কমাল সরকার
ছবি - সংগৃহীত

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার টন আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ লাখ ৪ হাজার টন চাল এবং ৪ লাখ ৪৯ হাজার টন আটা বিক্রি করেছিল সরকার।

বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কমার পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে ওএমএস কর্মসূচিতে ভর্তুকির বরাদ্দও ৬৮৫ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে যেখানে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৪১১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক সুরক্ষা খাতে সামগ্রিক বরাদ্দ বাড়লেও ব্যয়ের বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয় এবং প্রয়োজন হলে সরকার অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং খোলা আটা ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দুই কেজির প্যাকেটজাত আটার দাম ধরা হয়েছে ৫৫ টাকা। সরকার ডিলারদের মাধ্যমে দেশজুড়ে ১ হাজার ১২৫টি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করছে, যার বেশিরভাগই সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরগুলোতে অবস্থিত।

এদিকে বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য কেনার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ১৭ অক্টোবরের তথ্যমতে, ঢাকার বাজারে পাইজাম ও আটাশের মতো মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে স্বর্ণা ও চায়নার মতো মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

টিসিবি বাজারদর স্থিতিশীল থাকার কথা জানালেও রাজধানীর বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। ফলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ওএমএসের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ায় বাজারে বাড়তি দামের মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া গত বছর ভর্তুকি মূল্যে চাল বিক্রি করলেও চলতি বছর টিসিবির মাধ্যমে চাল বিক্রি বন্ধ রেখেছে সরকার, যা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমূল্যে খাদ্যপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সংকুচিত করেছে।

একই সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক খাদ্য ভর্তুকিও কমেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট খাদ্য ভর্তুকি বরাদ্দ আগের অর্থবছরের ৮ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।

তবে খাদ্য আমদানির বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ টন চাল এবং ৮ লাখ টন গম আমদানির জন্য সরকার ৯ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ টন চাল ও ৮ লাখ টন গম আমদানিতে সরকারের ব্যয় হয়েছিল ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের বরাদ্দ ১১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও আগের বছরের তুলনায় ৫৬ হাজার টন কমানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ ইতোমধ্যেই নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসেও অর্থনৈতিক মন্দার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ওএমএসের বরাদ্দ অবিলম্বে সমন্বয় করা উচিত এবং বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে ভর্তুকিও বাড়ানো দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ওএমএসের পণ্য অবৈধ বাজারে চলে যাওয়ার কোনো প্রমাণ থাকলে অপব্যবহার রোধে সরকারের উচিত এর প্রাপ্যতা ও বিতরণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কর্মসূচির সরবরাহ কমিয়ে আনা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টিবিএস অবলম্বনে

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.