আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজ লিজের বকেয়া বাবদ ৩৭ লাখ ডলারেরও বেশি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় হাবিব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের পরিচালনাকারী সংস্থা এইচজি এভিয়েশন লিমিটেডকে অবসায়নের (লিকুইডেশন) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বীকৃত ও পরিশোধযোগ্য দেনা এড়াতে পারে না।’ ১৭ অক্টোবর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

৩৭ লাখ ডলার বকেয়া: এইচজি এভিয়েশন অবসায়নের আদেশ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট ভবন

পাওনাদারদের ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৮২৭ দশমিক ৩৮ ডলার পাওনা আদায় এবং পুরো অবসায়ন প্রক্রিয়া তদারকি করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসিফ বিন আনোয়ারকে সরকারি অবসায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। এক সপ্তাহের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে এইচজি এভিয়েশনের অবসায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১৯ আগস্ট হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম এ রায় ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর ১৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। শুনানিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান উইলমিংটন ট্রাস্ট কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. মুক্তাদির রহমান। তবে এইচজি এভিয়েশনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

মো. মুক্তাদির রহমান জানান, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বেশ কয়েক দফায় উইলমিংটনের কাছ থেকে উড়োজাহাজ লিজ নিয়েছিল, কিন্তু তারা লিজের অর্থ পরিশোধে খেলাপি হয়। উড়োজাহাজ লিজের ক্ষেত্রে হাবিব গ্রুপের অপর ১০টি প্রতিষ্ঠান জামিনদার হিসেবে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বকেয়া অর্থ আদায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৩ সালে হাবিব গ্রুপের ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবসায়নের আবেদন করে উইলমিংটন।

আইনজীবী জানান, আদালত এ পর্যন্ত কেবল এইচজি এভিয়েশন অবসায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় বকেয়া অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে আদালত গ্রুপের বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে পারেন। চলতি মাসে আদালতের ছুটি শেষ হওয়ার পর তিনি অবশিষ্ট আবেদনগুলোর শুনানির উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

অবসায়ন আবেদনের মুখে থাকা গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—হাবিব স্টিলস লিমিটেড, ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড, লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেড, রিজেন্ট স্পিনিং মিলস লিমিটেড, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সিয়াম সুপিরিয়র লিমিটেড, এমটিএস রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, আনোয়ারা পেপার মিলস লিমিটেড, রিজেন্ট পাওয়ার লিমিটেড এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ লিমিটেড।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই ১১টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দেনার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়িক পতনের মুখে হাবিব গ্রুপের পাঁচজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব দেশ ছেড়েছেন। তারা হলেন চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসিন আলী এবং পরিচালক মাশরুফ হাবিব, সালমান হাবিব ও তানভীর হাবিব।

মামলার পটভূমি থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর ওনার ট্রাস্টি হিসেবে উইলমিংটন এইচজি এভিয়েশন লিমিটেডের সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজের চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজ পরিচালনাকারী এইচজি এভিয়েশনকে একটি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৩৭-৭০০ উড়োজাহাজ লিজ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এইচজি এভিয়েশন উড়োজাহাজ লিজের অর্থ পরিশোধসহ চুক্তির শর্তাবলী পূরণে ব্যর্থ হয়।

উইলমিংটন ট্রাস্টের বিবরণ অনুযায়ী, প্রযোজ্য সুদ ও অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক পাওনা বাদে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৮২৭ দশমিক ৩৮ ডলার। পাওনা অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সে বছরের ২৮ জানুয়ারি, ৩ ফেব্রুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি আইনি নোটিশ পাঠায়।

বারবার তাগাদার পর এইচজি এভিয়েশন তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধে সম্মত হয়। তবে পরবর্তীতে তারা নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধেও ব্যর্থ হয়, যার ফলে উইলমিংটন অবসায়নের আবেদন করতে বাধ্য হয়।

রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, এইচজি এভিয়েশন মূল দেনা নিয়ে কোনো বিতর্ক তোলেনি। বরং তারা ঋণ স্বীকার করে পরবর্তী একটি ব্যবস্থার অধীনে তা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছিল, যা রক্ষা করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামে হাবিব উল্লাহ মিয়া ভোগ্যপণ্যের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা ‘হাবিব ট্রেডিং’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাবিব গ্রুপের যাত্রা শুরু করেন। পরে তার তিন ছেলে ইয়াকুব আলী, মাহবুব আলী ও ইয়াসিন আলী ব্যবসায় যুক্ত হন এবং তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, জাহাজভাঙা, ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাগজ শিল্পে ব্যবসার বিস্তার ঘটান। তবে গত এক দশকে সার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এভিয়েশন খাতে মাত্রাতিরিক্ত সম্প্রসারণ গ্রুপটিকে তীব্র আর্থিক সংকটে ফেলে।

তাদের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হতে শুরু করে এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ তাদের উড়ান কার্যক্রম স্থগিত করে। বর্তমানে গ্রুপটির ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চারটি চালু রয়েছে। একসময় যেখানে কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি ছিল, তা নেমে এখন এক হাজারের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে।

টিবিএস অবলম্বনে

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.