৯৯ কোটির বিআরটি স্টেশন ভাঙতে ব্যয় ৪৫ কোটি
৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো ভেঙে অপসারণ করতেই নতুন করে ব্যয় হবে আরো ৪৫ কোটি টাকা। ভাঙা এসব অবকাঠামোর অবশিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করে সরকারের কোষাগারে জমা হবে মাত্র ৭ কোটি টাকা। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা এ প্রকল্পে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা খরচের পর পুরো বাস করিডোরটি ভেঙে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্তের পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা পাঠিয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় ২৫টি বিআরটি স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর আরো ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিআরটি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে পুরো কার্যক্রম সওজ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোর নির্মাণে ২০১২ সালের নভেম্বরে অনুমোদন দেয় সরকার। ২০১৬ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে দৈনিক ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। তবে তিন দফা সংশোধনের পর অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা মূল বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ১০৯ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটিতে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। অনুমোদিত ব্যয়ের প্রায় ৬৬ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের পরও শেষ পর্যন্ত বিশেষ বাসসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
চলমান অবকাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সড়কের মাঝখানের বিশেষ লেন বিভাজক তুলে নিয়ে উভয় পাশে তিনটি করে মোট ছয়টি সাধারণ লেন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি করিডোরের জন্য নির্মিত দুই লেনের দুটি উড়ালপথের পৃথক লেন তুলে দিয়ে তা চার লেনের নিয়মিত যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুসারে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরি করেছে এবং অধিদপ্তর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
প্রকল্পটির কারিগরি ও পরিচালনগত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গঠিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ দল গত বছরের অক্টোবরে প্রতিবেদন জমা দেয়। বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক প্রকল্পটি বাতিল করে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সুপারিশ করেন। তার মতে, বিমানবন্দর পর্যন্ত এসে বাস পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতার কারণে এই বিআরটি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ফল দিতে পারতো না। ফলে সড়কটিকে দ্রুতগতির সাধারণ মহাসড়কে পরিণত করা এবং চলমান তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইনের কাজ দ্রুত শেষ করে গাজীপুর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালুর মাধ্যমেই দীর্ঘ ভোগান্তির সমাধান সম্ভব।
অন্যদিকে বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দীন হাসান পুরো অবকাঠামো বাতিলের আগে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুরু থেকেই প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাঠামোগত দুর্বলতা বিদ্যমান ছিল।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চরম সমন্বয়হীনতার চিত্র দেখা গেছে। দেশে চলাচলকারী সব বাসের দরজা বাম পাশে থাকলেও বিআরটি স্টেশনগুলো নকশা করা হয়েছিল ডান পাশের দরজার উপযোগী করে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় দীর্ঘ বাস এবং পরবর্তীতে বৈদ্যুতিক বাস কেনার পরিকল্পনাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে ১৩৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডিজেল বাসের দরপত্র আহ্বান করা হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সৃষ্ট যানজটে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, উত্তরবঙ্গ ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থা চরম অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.