আপনি পড়ছেন

বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বামপন্থী রাজনীতির প্রতি ঝোঁক দেখা গেলেও ইসরায়েলে ঘটছে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে দেশটির তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশই কট্টর ও উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

কট্টর ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে ইসরায়েলের তরুণরা!
ইসরায়েলে ডানপন্থী রাজনীতির পক্ষে প্রচারণামূলক বিলবোর্ড

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনের পর থেকে ভোটার তালিকায় পাঁচ লাখেরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী এই নতুন ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশ আগামী ২৭ অক্টোবরের আইনসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। নাগরিক কর্মকাণ্ড ও জনপরিসরে তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তুলনামূলক সীমিত হলেও ‘ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট’ (আইডিআই)-এর জরিপে দেখা গেছে, দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ ইহুদি বিশ্বাস করে যে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমেই বাস্তবতা পরিবর্তন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব।

তবে তারা কেমন ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া নতুন ইহুদি ভোটারদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিজেদের ‘ডানপন্থী বা মধ্য-ডানপন্থী’ হিসেবে দাবি করেছে। সাধারণ ইসরায়েলি জনসংখ্যার তুলনায় এই হার অনেক বেশি, যদিও দেশটির সমাজ আগে থেকেই ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছিল। এই প্রবণতার কারণে ইসরায়েলের তরুণ ইহুদিদের এখন ‘জেনারেশন রাইট’ বা ‘ডানপন্থী প্রজন্ম’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে, যার মধ্যে অবশ্য দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত নন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক টিকে থাকা এবং তার ডানপন্থী কৌশলের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিভাজনমূলক। সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নেতানিয়াহু উগ্র ডানপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতমার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতো চরমপন্থী রাজনীতিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে বসিয়ে তাদের নীতিকে মূলধারায় নিয়ে আসা হয়েছে।

স্মোট্রিচ ২০১৭ সালে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, শুধু ইসরায়েলিদেরই আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকবে। ফিলিস্তিনিদের দেশ ছাড়তে হবে অথবা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ছাড়া বাস করতে হবে; আর এ দুটি শর্ত না মানলে তাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ২০২২ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও জমি দখলের তৎপরতা আরও জোরদার করেন।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এমন বিদ্বেষমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এখন তরুণদের মধ্যেও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপক ও বামপন্থী কর্মী লিওর শ্লেইনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ শিক্ষার্থী প্রকাশ্যেই ইসরায়েলে বসবাসকারী আরবদের হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে তরুণদের মনোভাব বুঝতে স্কুলগুলোতে গিয়ে কথা বলেন শ্লেইন। ওই ভিডিওতে শ্লেইন যখন শিক্ষার্থীটিকে জিজ্ঞেস করেন যে কীভাবে সে আরবদের হত্যা করতে চায়, তখন সে জবাব দেয়, ‘আমাকে একটি ছুরি দিন এবং আমি তা করব।’ ৭ অক্টোবরের হামলার কারণে তার মনোভাব এমন হয়েছে কি না জানতে চাইলে সে স্পষ্ট ভাষায় বলে, ‘আমি সবসময়ই বর্ণবাদী ছিলাম।’ একই সঙ্গে সে দাবি করে, ইসরায়েলে আরবদের বসবাসের অধিকার থাকা উচিত নয়। ভিডিওটি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শ্লেইন পরবর্তীতে তা সরিয়ে ফেলেন।

অন্য একটি অনুষ্ঠানে শ্লেইনের কাছে এক ছাত্রী জানতে চায় গাজায় কোনো নিরীহ মানুষ আছে কি না। সেখানে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে শ্লেইন অস্বীকৃতি জানালে ওই ছাত্রী প্রশ্ন করে, ‘আপনি কি মনে করেন যে এমনটা করা উচিত?’ শ্লেইন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ছাত্রীটি জানায় যে সে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই এই প্রশ্নটি করেছে।

তেল আবিবে বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির তরুণ সমর্থকদের এক সভায় ১৮ বছর বয়সী গিলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইসরায়েলি সমাজ শান্তির চিন্তা পুরোপুরি পরিত্যাগ করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের ক্ষত মানুষের মনে এমন ভীতির সঞ্চার করেছে যে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা আর বিশ্বাস করতে পারছে না।

যদিও ৭ অক্টোবরের ঘটনা ইসরায়েলের সমাজকে কট্টর ডানপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে বহু বছর আগে থেকেই দেশটি এই পথে হাঁটছিল। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওত আহরোনোত’-এর জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ১৬ শতাংশেরও বেশি নতুন ভোটার উগ্র ডানপন্থী দলগুলোকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি উন্মুক্ত প্রান্তরে উগ্রপন্থী মন্ত্রী বেন-গভিরের ছবিযুক্ত পোশাক পরা ১৮ বছর বয়সী অমিহাই ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ বসতি স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকার দৃশ্যপট সামনে রেখে সে জানায়, বেন-গভিরের দল ‘ওৎজমা ইহুদিত’-কে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। বেন-গভির নিজেও পশ্চিম তীরের একটি অবৈধ বসতিতে বসবাস করেন।

২০২০ সালের নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হলেও ২০২২ সালে নেতানিয়াহুর সরকারে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। অতীতে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থনসহ বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও বেন-গভির খুব দ্রুত তরুণদের ভাষা রপ্ত করতে পেরেছেন। সাম্প্রতিক জরিপগুলো অনুযায়ী, এই নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশই তাকে সমর্থনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.