আপনি পড়ছেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের সামান্য ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা গুঁড়িয়ে দিয়েছে দলটি। এই ফলাফলের ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের পথ কংগ্রেসে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ল।

শতবর্ষ পর রিপাবলিকানদের দুর্গ ভেঙে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়
যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজনীতিবিদের প্রতিকৃতির সমন্বিত ছবি

মঙ্গলবার রাতের ভোট গণনার পর দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাচ্ছে। এর ফলে আগামী জানুয়ারি মাসে ১২০তম কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর মাধ্যমে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের প্রায় দুই বছরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ শেষ হতে যাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার জন্য তার কাছে এখনও ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।

নির্বাচনে সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি ঘটেছে ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যে। সেখানে প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। মেগাচার্চের যাজক ও নবাগত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন হারিয়ে দিয়েছেন বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে। ১৯৩২ সালের পর ক্যানসাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটে যাননি। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে মার্শাল নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে স্বতন্ত্র ও গ্রামীণ ভোটারদের নিজের পক্ষে টেনে নেন হ্যামিল্টন। এই আসনে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসে দুই দফা প্রচারণা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি।

অনুরূপ এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটেছে মেইন অঙ্গরাজ্যে। সেখানে পাঁচ প্রজন্মের কাঠুরে এবং স্থানীয় শ্রমিক নেতা ট্রয় জ্যাকসনের কাছে পরাজিত হয়েছেন প্রায় তিন দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স। পরাজয় মেনে নিয়ে জ্যাকসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কলিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যাকসন লেখেন, ‘মেইনবাসী, আমি আপনাদের কাছে চিরঋণী। সিনেটে আপনাদের জন্য কাজ করতে আমি প্রস্তুত এবং কথা দিচ্ছি, আমি কোথা থেকে এসেছি ও কাদের জন্য লড়াই করছি তা কখনো ভুলব না।’

এছাড়া টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকো। তিনি রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে আসনটি ছিনিয়ে নেন। জয়ের পর উল্লাসিত সমর্থকদের উদ্দেশে ট্যালারিকো ঘোষণা দেন, তারা টেক্সাস পুনরুদ্ধার করেছেন।

অন্যদিকে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সিনেটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন শেরড ব্রাউন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পদত্যাগ করার পর ওই আসনে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করেন তিনি। জর্জিয়াতে সিনেটর জন অসফ সহজে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। মিনেসোটাতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও স্থানীয় কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়ালেও রিপাবলিকান প্রার্থী মিশেল তাফোয়াকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক লেফটেন্যান্ট গভর্নর পেগি ফ্ল্যানাগান।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেলেও সিনেট ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলে প্রশ্ন উঠেছে। বিজয়ী হওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থী, যেমন ক্যানসাসের হ্যামিল্টন ও মিনেসোটার ফ্ল্যানাগান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা শীর্ষ নেতৃত্বে চাক শুমারকে আর দেখতে চান না। দলটিতে এখন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দাবি জোরালো হচ্ছে।

এদিকে অভাবনীয় এই পরাজয়ের পর রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সিনেট নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান সিনেটর টিম স্কট এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত কিছু প্রার্থীর দুর্বল প্রচারণা নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.