জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ: ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছে সরকার
বিপ্লব-পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের প্রশাসনিক অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার দায়ে কারাবন্দি আওয়ামী লীগের নেতাদের কারাগারে ভিআইপি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাপানের মাধ্যমে ভারতকে করিডোর প্রদান বন্ধ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা দমনের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নেতারা এসব অভিযোগ তোলেন।
সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল সর্বদলীয় ঐক্যের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা হবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে জাতীয় সরকার গঠন দূরের কথা, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ন্যূনতম সুস্থ রাজনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখা হচ্ছে না। উল্টো বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অসত্য প্রচার চালানো হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগপন্থীদের সঙ্গে বিশেষ সখ্য রক্ষা করা হচ্ছে।
কারাগারে বন্দিদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খোমেনী ইহসান বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতারা বর্তমানে কারাগারে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে অবস্থান করে বিলাসী খাবার ও নানা বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে অতীতে ‘আগুনসন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া হাসানুল হক ইনুর মতো ব্যক্তিও কারাগারে বিশেষ ডিভিশন পাচ্ছেন। অথচ প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে মৃত্যুর পরও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া যেসব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ জোট রাজনীতি পরিচালনা করেছেন, বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের আক্রমণ থেকে তারা কেউ রেহাই পাচ্ছেন না।
চলমান তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে খোমেনী ইহসান অভিযোগ করেন, সরকার নিজের প্রশাসনিক ব্যর্থতা গোপন করতে জামায়াত ও শিবিরকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ অমূলক। পোশাক খাতের বিক্ষোভে জামায়াতের অনুসারীদের কোনো ধ্বংসাত্মক সম্পৃক্ততা নেই। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কারখানামালিকরা জড়িত। যদি বিরোধী দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকত, তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মতো বড় পোশাক ব্যবসায়ীর নামও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করতেন। জাতীয় সংকটে বিরোধী দলকে প্রতিপক্ষ বানালে ষড়যন্ত্রকারীরাই লাভবান হবে।
দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে ২৪০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত শূন্য হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল অর্থনীতির পুনরুদ্ধার। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি দশ মাস ঝুলিয়ে রেখে সরকারি কর্মচারীদের জন্য পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী আগেভাগেই মজুরি বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিলেও শ্রম মন্ত্রণালয় সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ন্যায্য দাবিতে শ্রমিকরা মাঠে নেমেছেন এবং সেই সুযোগে ভারত ও দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের দিয়ে শ্রমিক দমন বন্ধ করে অবিলম্বে মাসিক ২ হাজার টাকা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোমেনী ইহসান বলেন, ভারতের মদদে সহিংসতা চলছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করলেও বিগত নয় মাসে এই অপতৎপরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসবি, ডিবি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ২০১০ সালে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী মানিক পসারীকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিগত বিচারিক হত্যাকাণ্ডগুলোর পুনঃতদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তিনি।
ভূরাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে বক্তারা বলেন, ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের স্বাক্ষরিত অসম চুক্তিগুলো এখনো বহাল রয়েছে। জাপানের সহায়তায় নির্মিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া বাংলাদেশকে পরাশক্তিগুলোর সামরিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এ ছাড়া ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা দিয়ে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সংগঠনটি চার দফা দাবি ঘোষণা করে। দাবিগুলো হলো—জাপানের মাধ্যমে ভারতকে মাতারবাড়ি বন্দর ও করিডোর দেওয়ার চুক্তি বাতিল, ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কার, আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব অধীনতামূলক চুক্তি বাতিল। এ ছাড়া চলমান সংকট সমাধানে পোশাক শ্রমিকদের ২ হাজার টাকা মহার্ঘ ভাতা প্রদান, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শ্বেতপত্র প্রকাশ, ডিসেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়নে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর জাতীয় সংলাপ শুরুর প্রস্তাব দেয় দলটি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডা. ফরিদ উদ্দিন, সাইয়েদ কুতুব, আবদুস সালাম, আবদুল ওয়াহেদ ও শাহ ফেরদৌস হাসান নাজমুল। উপস্থিত ছিলেন আব্দুল জব্বার, অ্যাডভোকেট মাইন উদ্দীন, সাইদুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.