সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়েছেন তাওহিদ হৃদয়। টেস্টে যেকোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ২৪২ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে তার এমন দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণের সুবাদেই প্রথম ইনিংসে লিড নিতে সক্ষম হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

হৃদয়: পাল্টা আক্রমণ ছাড়া উপায় ছিল না
সিলেট টেস্টে ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরির পর ব্যাট উঁচিয়ে তাওহিদ হৃদয়ের উদযাপন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ একপর্যায়ে ১৮৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। এর আগে পায়ের গোড়ালির চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন উদ্বোধনী ব্যাটার সাদমান ইসলাম। তবে দলের এমন সংকটময় মুহূর্তে লোয়ার অর্ডারের তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ দুই উইকেটে মহামূল্যবান ২০২ রান যোগ করেন হৃদয়।

নিজের ঐতিহাসিক এই ইনিংসে ১১টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকান এই ডানহাতি ব্যাটার, যা টেস্টে বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম। টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে অসুস্থতার কারণে কথা বলতে না পারলেও রবিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সাদা বলের বিশেষজ্ঞ হিসেবে অতিরিক্ত শট খেলার যে সমালোচনা তার বিরুদ্ধে ছিল, এই ইনিংসের মাধ্যমে তারও জবাব দিলেন তিনি।

নিজের ব্যাটিং দর্শন সম্পর্কে হৃদয় বলেন, ‘সবসময় আক্রমণাত্মক খেলাই মূল বিষয় নয়, বরং পরিস্থিতি যা দাবি করে আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করি। পরিস্থিতি যদি দাবি করে তবে আমি আক্রমণ করবই। আমার মতে, কখনো কখনো এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য পাল্টা আক্রমণ চালানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।’

প্রতিপক্ষ চালকের আসনে বসার আগেই পাল্টা আঘাত হানা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই তরুণ ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই আমাদের পাল্টা আক্রমণের পথ খোঁজা উচিত। এটাই আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমি এভাবেই খেলতে পছন্দ করি।’

সিলেট টেস্টের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হৃদয়ের দুই অঙ্কের ইনিংস ছিল মাত্র একটি। সেখান থেকে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরে কেবল লড়াই চালিয়ে যাওয়াই ছিল তার একমাত্র ভাবনা। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দলকে সহায়তা করতে পারায় প্রথমেই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এটি ভাগ্যে নির্ধারিত ছিল, এটা আমার রিজিক। কাউকে ছাড়িয়ে যাব বা ফলাফল কী হবে, এসব নিয়ে আমি মোটেও ভাবছিলাম না।’

উইকেটে নিজের অবস্থান ধরে রাখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, লড়াই করে দলকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি উইকেটে মানিয়ে নিয়েছিলেন এবং বল খুব সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছিল। তাই দলের জন্য যতটা সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর টেলএন্ডারদের ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘সেট ব্যাটার হিসেবে পরামর্শ বা কৌশল বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করেছি। একই সাথে তারা যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা অসাধারণ ছিল। দল এত দূর আসতে পারার পুরো কৃতিত্ব তাদেরই।’

টেলএন্ডারদের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, ‘তাইজুল ও তাসকিন যেভাবে চাপ সামলেছে তা এক কথায় অসাধারণ। ব্যাট হাতে তাদের দক্ষতার কথা আমাদের আগেই জানা ছিল। টেস্টে মাঝে মাঝে দ্রুত রান তোলার তীব্র চাপ থাকে না, তারা পরিস্থিতির সেই সুবিধা নিয়ে পরিকল্পনায় অটল থেকেছে।’

শেষ দিকের ব্যাটারদের সুরক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে হৃদয় জানান, তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন শুরুতে অতিরিক্ত বলের মুখোমুখি না হয়। টেস্টে প্রথম কয়েকটি বল সামলানো যেকোনো ব্যাটারের জন্যই সবচেয়ে কঠিন। তাই বেশিরভাগ ডেলিভারি নিজে মোকাবিলা করে তাদের উইকেটে চোখ সেট করার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

উইকেটে সঙ্গীর ওপর আস্থা রাখা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অন্য প্রান্ত থেকে বল কেবল পর্যবেক্ষণ করলেও ব্যাটারদের ছন্দ খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। সেটাই আমাদের পরিকল্পনা ছিল। তাদের চমৎকার রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণেই তারা উইকেটে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পেরেছিল। সঙ্গীর ওপর বিশ্বাস না রাখলে তো সামনে এগোনো যায় না।’

ইনিংসের শেষ ভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাঠের একপাশ আটকে ফিল্ডিং সাজালেও হৃদয় একাধিক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে এমন ফিল্ডিং সাজানো খুব স্বাভাবিক বিষয় এবং ঠিক এ কারণেই টেস্ট ক্রিকেট অনন্য। তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্দিষ্ট দিকে শট খেলতে বাধ্য করছিল। আমি কেবল আমাদের পূর্বপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০২৩ সালে অভিষেকের পর সীমিত ওভারের ১১৫টি ম্যাচ খেলে টেস্ট ক্যাপ পান হৃদয়। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের পরামর্শেই মূলত তিনি টেস্ট ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে তানজিদ হাসানকেও একই পরামর্শ দিয়েছিলেন বাশার।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্ভার হৃদয় জানান, তিনি সবকিছুকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করছেন। ভাগ্যে যা আছে তা-ই ঘটবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা তিনি বহু আগেই বাদ দিয়েছেন। সবকিছু আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে সঠিক পদ্ধতিতে অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়াই তার একমাত্র অগ্রাধিকার।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.