আপনি পড়ছেন

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, নীল দলের একাংশের আপত্তি আর সাদা দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে তিনজনের প্যানেল ঘোষণা করেছে সিনেট। প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্যানেল না থাকায় বিনা ভোটেই প্যানেলটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

du student teacher clash

তিন জনের প্যানেলে রয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরেফিন সিদ্দিক, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ও কোষাধ্যক্ষ ড. মোঃ কামাল উদ্দীন ও থিওরিটিক্যাল এন্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং নীল দলের আহ্বায়ক ড. মোঃ আব্দুল আজিজ।

শনিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলি সিনেট ভবনে সিনেটরদের বিশেষ অধিবেশনে এই তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রফিকুল ইসলাম জানান, সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর আর্টিক্যাল ১১(১) ধারা অনুযায়ী মহামান্য চ্যান্সেলর কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জনের একটি প্যানেল মনোনয়ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের আর্টিক্যাল ২১(২) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সিনেটের এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন।

অন্যদিকে সরকার সমর্থক শিক্ষকদের নীল দলের একাংশের, বিএনপি সমর্থক শিক্ষকদের সাদা দলের এবং শিক্ষার্থীদের আপত্তি উপেক্ষা করে উপাচার্য প্যানেল মনোনয়ন করা হয়। নীল দলের একাংশের দাবি ছিল, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন দেয়ার পরে উপাচার্য নির্বাচন করা। রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন না হওয়ার কারণে সিনেটের ১০৫ জন গ্রাজুয়েট প্রতিনিধির মধ্যে ৫৫ জন এই উপাচার্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবিতে আদালতে আবেদনও করেছিলেন ১৫জন গ্রাজুয়েট। উচ্চ আদালত উপাচার্য নির্বাচন স্থগিত করলেও আপিল বিভাগ উপাচার্য নির্বাচনে কোন বাধা নেই বলে রায় দেয়ায় নীল দলের একাশেংর আবেদন বাতিল হয়ে যায়।

বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষকরাও গ্রাজুয়েট প্রতিনিধির বড় অংশ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না দাবি করে গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি ছাড়া সিনেটের বিশেষ অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দেয়। ৩৫ জন নির্বাচিত সিনেটরদের মধ্যে সাদা দলের মাত্র দুই জন প্রতিনিধি থাকায় সাদা দলের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে তেমন বড় কোন বাধা হয়ে উঠতে পারেনি।

তবে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সিনেট প্রাঙ্গন উত্তাল করে তুলেছিল। ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে তারা সিনেট ভবন ঘেরাও করার চেষ্টা চালান। তারা প্লাকার্ড হাতে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অবৈধ বলেও তারা স্লোগান তোলেন।

du student teacher clash 01

স্লোগানকে আপত্তিকর দাবি করে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। একপর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে দুই শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। সিনেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পূর্বে শনিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের সাথে হাতাহাতিতে হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাকিবুল হকের।  আহত অপর শিক্ষক হলেন, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুহিত। তারা দুজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক মাসুদ আল মাহাদী বলেন, 'উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন হচ্ছে সিনেট প্রতিনিধিদের দ্বারা, কিন্তু সেখানে ছাত্রদের পাঁচ প্রতিনিধি নেই। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের ২৫ জন প্রতিনিধিও নেই। তাই তাদের বাদ দিয়ে এই নির্বাচন অবৈধ। আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষকদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। তাদের হামলায় ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং ছাত্রীরা লাঞ্চিত হয়েছেন। আহত ছাত্ররা হলেন- সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সালমান ফার্সি, সাদিকুল ইসলাম, মর্ম তমা, আবু রায়হান, ছাত্র ফেডারেশনের সাদিক রেজা এবং নাসির আব্দুল্লাহ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সিনেট ভবনের পূর্ব পাশের গেইটে তালা মেরে দেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা সিনেট ভবন চত্বরে অবস্থান নেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলী ঘটনা স্থলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে শিক্ষার্থীরা সিনেট ভবন প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মানবন্ধন করেন।

ঢাবিতে জবি শিক্ষকের মাস্তানি:   ঢাবি শিক্ষকদের পক্ষ হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) প্রভাষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নেতা কাজী ফারুক হোসাইন এবং জবির ভূগোল বিভাগের শিক্ষক মাহি।

ঘটনার সময়ে উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের যে ঘটনা ঘটেছে তা ন্যাক্কারজনক। ছাত্রদের দাবির বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তারা এভাবে সিনেট অধিবেশন চলাকালে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করতে পারে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক যদি ঘটনার সাথে নিজেদের জড়িয়ে থাকেন তবে তা সম্পূর্ণ তাদের ইচ্ছায়। অতি উৎসাহী হয়ে হয়ত তারা এ কাজ করেছেন। আমরাও ডাকসু নির্বাচন চাই। তবে সিনেটের চলমান প্রক্রিয়াকে বন্ধ করে না।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আন্দোলনকারী বলেন, শিক্ষকরা নির্দিষ্ট সময় সিনেট নির্বাচন পাচ্ছেন। উপাচার্য নির্বাচন পাচ্ছেন। শুধু বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। আমাদের কোন প্রতিনিধি নেই। ২৭ বছর ধরে আমাদের ডাকসু নির্বাচন বন্ধ। সিনেটকে চলমান রাখা হয়েছে তাই সিনেট চলমান প্রক্রিয়া, ডাকসুকে অবৈধভাবে বন্ধ করে ডাকসুর চলমান প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন আমাদের কথা বলার কোন জায়গা নেই। যেই শিক্ষকরা আমাতের ক্লাশে গণতন্ত্রের পাঠ দেন তারাই আজ আমাদের মুখ বন্ধ করতে বলছেন।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের সিনেট ভবেনের বাইরে মানববন্ধন করার কথা ছিল। কিন্তু তারা জোরপূর্বক  গেটের তেলা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাদের ভিতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ছাত্ররা কথা না শুনলে শিক্ষকরা প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে থেকে বাঁধা দেন। এসময় ছাত্ররা শিক্ষকদের ঠেলে ভিতরে যেতে চাইলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা আহত হলেন কিভাবে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, 'ছাত্ররা শিক্ষকের ঠেলে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে যা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকের হয় পিঠ ফিরে দাঁড়িয়ে থেকে ছাত্রদের মার খেতে হয় অন্যথায় হাত দিয়ে মার ফিরাতে হয়। ছাত্রদের এ ধরনের কাজ শিক্ষদের ফিরানোটা যদি অন্যায় হয় তবে শিক্ষকরা তাই করেছেন। আমার মনে হয় ছাত্রদের সঙ্গে কিছু বহিরাগতরাও ছিল। তাদের হামলায় আমাদের দুইজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। একজনের হাতের আঙ্গুলের জয়েন্টে সমস্যা হয়েছে।'

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.