আপনি পড়ছেন

সঠিক আদ্রতা ও ধান ভাঙানোর পদ্ধতিতে অদক্ষতা থাকায় বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ ধান অপচয় হচ্ছে। সঠিক আদ্রতায় ভাঙালে যেখানে প্রতি মণ ধানে ৩০ কেজি চাল পাওয়া সম্ভব ছিল, সেখানে ২৬-২৮ কেজির বেশি চাল পাওয়া যাচ্ছে না। ধান থেকে চাল উৎপাদনের এ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র অদক্ষতার কারণেই প্রায় ২০ লাখ টন চাল অপচয় হচ্ছে।

rice cutting

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ২২-২৮ শতাংশ আর্দ্রতায় ধান কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশ আমন ধান ১৮-২০ ও বোরো ধান ২০-২৮ মাত্রার আর্দ্রতায় কাটা হয়। সাধারণত বাতাসে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা থাকাকালে ধান কাটা হলে প্রতি মণ ধানে প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ কেজি চাল পাওয়া সম্ভব। সঠিক আর্দ্রতায় না কাটার কারণে নষ্ট হচ্ছে ৫-৬ শতাংশ চাল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিআরআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ‘বিশ্বের সবখানে ময়েশ্চার মিটার দিয়ে আর্দ্রতা পরিমাপ করে তারপর ধান কাটার সিদ্ধান্ত নেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ এখনও ধান কাটার আগে চোখের দৃশ্যমান অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেন। এটি একটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষককে আর্দ্রতা পরিমাপের জ্ঞান ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানানো গেলে চালের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। ধান কাটার সময় ধানের জাত, জমি ও আবহাওয়াকে যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি উন্নত যন্ত্রের ব্যবহারও বাড়াতে হবে।’

ধান ভাঙানোর পদ্ধতিতেও যথেষ্ট দুর্বলতা লক্ষ করা যায়। দেশের সিংহভাগ ধান এখনো অটো ও সেমি অটো চালকলে ভাঙানো হচ্ছে। কিন্তু চাতালে ধান ভাঙানো হলে অটো ও সেমি অটো চালকলের তুলনায় প্রতি মণ ধানে ২-৫ কেজি বেশি চাল পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও কুড়িগ্রামের রাহী চালকলের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাই বলেন, ‘অটো রাইস মিলের তুলনায় চাতালে বা হাসকিং মিলে ধান ভাঙালে ৪-৬ শতাংশ বেশি চাল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা সেটা না করে উৎপাদিত ধান অপচয় করছি এবং একই সাথে চালের পুষ্টিগুণও নষ্ট করছি।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকলের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রতি মণ ধানে ২-৩ কেজি চাল ভেঙে যায়। এছাড়া চাল বিপণন ও পরিবহনজনিত দুর্বলতায়ও যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের অপচয় রোধ করা গেলে সম্প্রতি বন্যা ও ব্লাস্ট রোগে ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের হিসাবে যুক্ত হতে পারত।

জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অদক্ষতার অভাবে চাল উৎপাদন পূর্ববর্তী প্রক্রিয়ায় ছয়টি ধাপে ১০-৩৭ শতাংশ ধান নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে ধান কাটার সময় ১-৩ ও হ্যান্ডলিংয়ে ২-৭, থ্রেসিং বা মাড়াইয়ে ২-৬, শুকানোয় ১-৫, গুদামজাতকরণে ২-৬ এবং পরিবহনে ২-১০ শতাংশ পর্যন্ত ধান অপচয় হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও এগিয়ে নেই।

এফএওর বৈশ্বিক খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬৭ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে সরকারি পর্যায়ে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে কোন চাল আমদানি করা হয়নি এভং বেসরকারি পর্যায়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টনের মতো আমদানি করা হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, গতবছর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার দাবি করেছে বাংলাদেশ কিন্তু এই বছর চাল আমদানিতে শীর্ষ অবস্থানে চলে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশে প্রতি বছর সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীর বার্ষিক চালের চাহিদা যেখানে ২ কোটি ৬৪ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে বার্ষিক উৎপাদন ৩ কোটি ৩৩ লাখ টন। কিন্তু চলতি বছর দুই দফায় আগাম বন্যার কারণে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে ফলে এতো বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করতে হচ্ছে।  যদি উৎপাদনের এই অদক্ষতাকে অতিক্রম করা সম্ভব হয় তবে দেশের জনগণের সারা বছরের চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ বরং বিদেশে চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.