ঝুঁকি জেনেও সচল হচ্ছে অনেক দেশ
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। গত ডিসেম্বরে প্রথম প্রদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখের বেশি মানুষ। সংক্রমিত হয়েছেন ৩০ লাখের বেশি। বিজ্ঞানীরা দিন-রাত এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে ভাইরাসটির সম্ভাব্য প্রতিষেধকের মানবদেহে পরীক্ষাও শুরু করেছে।

তবে এখনো কোনো প্রতিষেধক স্বীকৃতি না পাওয়ায় ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবং মানবজাতিকে বাঁচাতে লকডাউনই একমাত্র ভরসা। দেশে দেশে ইতোমধ্যে সেটি জারি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, দোকানপাট। এতে সংক্রমণ অনেকটা প্রতিরোধ করা গেলেও থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন জারি থাকলে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যতা এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খাদ্য সংকটসহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তাই অর্থনীতির কথা চিন্তা করে এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমায় ইতালি-স্পেনসহ বেশ কিছু দেশ লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কল-কারখানা চালু করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলেছে কয়েকটি দেশ।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বিশ্বজুড়ে আরো বেশ কিছুদিন রাজত্ব করবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। লকডাউন তুলে নিলে পরিস্থিতি ফের খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচও'র এই আশঙ্কা মেনেও নিয়েছে লকডাউন শিথিল করা দেশগুলো। কিন্তু অর্থনীতির চাকাকে ফের সচল করতে ঝুঁকি সত্ত্বেও এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেসব দেশের নেতারা।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতালিতে প্রায় ২৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। এরপরও আগামী ৪ মে থেকে কাজে ফিরতে চলেছে দেশটির বাসিন্দারা।
করোনার বিস্তার মোকাবেলায় গত দেড় মাস ধরে সবকিছু বন্ধ রয়েছে নিউজিল্যান্ডে। তবে গতকাল সোমবার থেকে মাছ ধরা, শিকার, হাইকিং এবং সার্ফিংয়ের ওপর বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। পাশাপাশি এ সপ্তাহ থেকে কাজে ফিরতে পারবেন দেশটির প্রায় ৪ লাখ মানুষ। তবে রেস্তরাঁ এবং দোকানপাট আগের মতোই বন্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু প্রদেশে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকেও লকডাউন শিথিল করার চিন্তা করছে দেশটির প্রশাসন। অথচ এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গেছে এ দেশটিতেই।
আজ মঙ্গলবার থেকে জার্মানির ১৬টি প্রদেশে পর্যায়ক্রমে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। চালু করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ স্কুল ও দোকান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে নরওয়েতেও। ছোট ছোট বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও চালু করার অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার।
এ ছাড়া সোমবার থেকে পাঠাগার ও সংগ্রহশালা খুলেছে ক্রোয়েশিয়ায়। খাবারের দোকান ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। আগামী ৬ মে শহরটিতে খুলছে স্কুল। লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে কয়েক দিন আগেই।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর