আপনি পড়ছেন

সাত বছর বয়সে আপনি করতেন? স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি বা কেবলই স্কুলিং শুরু— এর বেশি কি কিছু করেছিলেন? অথচ এই বয়সেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাঠ নিচ্ছে আরব আমিরাতের সাত বছর বয়সী সানভি চৌররিয়া!

saanvi a seven year old kid who qualifed for oxford

সানভি এর মধ্যেই ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ইন্টার্নশিপ ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সম্পন্ন করে ফেলেছে। তার চেয়ে কম বয়সে আর কেউ এই আয়োজন সম্পন্ন করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, গুগলের একটি কোডিং সার্টিফিকেটও আছে তার। অবশ্য ওই কোর্সটি শিশুদের জন্যই ডিজাইন করা ছিলো।

সানভির বাবা-মায়ের নাম আন্নু এবং অভিষেক। তারা কম বয়সেই তাদের সন্তানকে ডিজিটাল দক্ষতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

আন্নু বলেন, “সানভি যুক্তিনির্ভর এবং কৌতুহলী। আমরা তাই তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি— কারণ ভবিষ্যতে এই খাতই হবে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন।”

গত বছর লকডাউনের সময় কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় হয় সানভির। বাসায় বসে স্কুলের পড়াশোনা করার পাশাপাশি তাকে কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। সানভি তার খেলনা ফেলে এই সব নিয়েই মেতে ওঠে।

আবু ধাবির পার্ল একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া সানভি বলে, “কোডিং আমার খুব ভালো লাগে। এআই-ও আমার খুব পছন্দের। এআই ব্যবহার করে আমি মজার গেইম তৈরি করি এবং আমার স্কুলের পড়ালেখায়ও এটি কাজে লাগে।”

প্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ দেখে সানভির বাবা-মা তাকে এ বিষয়ক পড়াশোনার একটি প্লাটফর্মে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তারা ভারতের নদিয়া-ভিত্তিক ক্লেভার্ডের ভার্চুয়াল কোর্সে তাকে ভর্তি করিয়ে দেন। ক্লেভার্ড শিশুদের গুগল, আইবিএম, ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কোর্সের জন্য দিক নির্দেশনা দেয়।

গত অক্টোবরে সানভি ছয় মাসের একটি ইন্টার্নশিপের জন্য মনোনিত হয়। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, “এইআই-এর মাধ্যমে পৃথিবীতের পার্থক্য গড়ার মতো কিছু করার সম্ভব। আমি তাই উইকিপিডিয়া-ভিত্তিক একটি প্রকল্প তৈরির সিদ্ধান্ত নেই এমন মানুষদের জন্য যারা টাইপ করতে পারেন না। তারা শুধু কথা বলেই সার্চ করতে পারবেন এবং এআই বাকি কাজ করে দেবে।”

ক্লেভার্ডের ব্যবসা বিষয়ক প্রধান শিক্ষা কোহলি বলেন, “ইন্টার্নশিপের জন্য ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের সাথে আমাদের সহযোগিতামূলক চুক্তি আছে। আমাদের সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থী হিসেবে সানভি সেখানে সুযোগ পেয়েছে। তার প্রকল্পটি আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।”

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক কেন কাহন বলেন, “গত ছয় মাসে আমরা ইন্টার্নশিপের জন্য ৫৫ জনের মতো শিক্ষার্থী পেয়েছি। আমাদের সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থী হিসেবে সানভিও সেখানে সুযোগ পেয়েছে। তার অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য তার উইকিপিডিয়াভিত্তিক প্রকল্পটি আমাকে অবাক করে দিয়েছে।”

পার্ল একাডেমির প্রিন্সিপাল বারবারা হিটন এ বিষয়ে বলেন, “ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ইন্টার্নশিপে সানভির সুযোগ পাওয়ায় আমরা খুবই গর্বিত বোধ করছি। কোডিও ও এআই-এ এটি নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। সে নিজেকে ও তার স্কুলকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে উপস্থাপন করেছে।”

সানভি বর্তমানে ডাটা সাইন্স নিয়ে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছে, আর স্বাভাবিকভাবেই তার বাবা-মা এতে বেজায় খুশি। তারা মনে করেন, সানভি তার মেধা, আগ্রহ ও পরিশ্রমের উপর ভিত্তি করে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর