আপনি পড়ছেন

কখন যে কাকে কাজে লাগে, আগে থেকে বলা মুশকিল। এই যেমন কথায় কথায় যার নাম ধরে গালি দেয়া হয়, সে-ই যে দাবানল প্রতিরোধে অগ্রসেনানীর দায়িত্ব পালন করবে, আগে থেকে কে ধারণা করেছিল? বলছিলাম, ছাগলের কথা। ভুল শোনেননি, বলছিলাম ছাগলের কথাই।

goat 1সব খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে ছাগল

বনবাদাড়ে দাবানল লেগে গেলে আর কোনো বাধাই মানতে চায় না। লেলিহান শিখা দিয়ে তারা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় সব। এর ফলে পুড়ে যায় বন, বনের পাশে থাকা বাড়িঘরসহ অনেক সময় পুরো শহরই। অনেক ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও কিছুই করার থাকে না ফায়ার সার্ভিসবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর।

এ অবস্থায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে দাবানলপ্রবণ দেশগুলো দ্বারস্থ হয়েছে ছাগলবাহিনীর। পরিকল্পনার মধ্যে আছে, এরা বিভিন্ন বনে ছড়িয়ে পড়বে এবং শুকনো পাতা, ঘাস, গুল্ম, ঝোপঝাড় ও ছোট গাছ ইত্যাদি খেয়ে পরিষ্কার করে ফেলবে। ফলে দ্রুততার সাথে এসব এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। অর্থাৎ দাবানলের উৎপত্তিই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হবে। 

goat 2ভাড়াটে ছাগলবাহিনী

মূলত জানা যায়, ছাগল তার শরীরের ওজনের প্রায় নয় শতাংশ পর্যন্ত খেতে পারে। কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টিকেই কাজে লাগাতে চায়।

বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্র এদিক দিয়ে বেশ এগিয়েই আছে। এসব দেশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও দাবানল প্রতিরোধে ছাগল নিয়ে কাজ চলছে। ফলে ছাগল ভাড়া দিতে গড়ে ওঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান এলাকা নিরাপদ করার জন্য ছাগল ভাড়া দেয়। ভাড়া নেয়া হলে ছাগলগুলো মালিকের বাড়িতে গিয়ে কয়েকদিন অবস্থান করে শুকনো পাতা, ঘাস, গুল্ম, ঝোপঝাড় ও ছোট গাছ ইত্যাদি খেয়ে এলাকা প্রায় নিরাপদ করে ফিরে আসে। আর তুলনামূলক নিরাপদ হয়ে ওঠে এসব স্থান। ফলে এসব এলাকায় ছাগলের চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে খরচও।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, দাবানল প্রতিরোধে এ বিষয়টি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি সাশ্রয়ী। তাই আমরা আগামীতে আমরা এ ধরনের প্রকল্প আরো বেশি করে হাতে নেবো।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর