advertisement
আপনি দেখছেন

যাকাত ইসলামের অন্যতম মৌলিক আর্থিক একটি ইবাদত। যাকাত আদায় করলে সম্পদ পরিশুদ্ধ এবং বরকতময় হয়। যাকাত ধনীদের সম্পদে গরীব ও বঞ্চিতদের অধিকার। এজন্য যাকাত প্রদানকারীদের নিজ দায়িত্বে যাকাতের সম্পদ যাকাত গ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং তাদের (ধনীদের) ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ সূরা জারিয়াত, আয়াত-১৯।

zakat header 6001 1

যাকাত প্রতিবছর একবার এবং বছরের যে কোন সময় আদায়যোগ্য ইবাদত হলেও সাধারণত তা রমজান মাসেই আদায় করা হয়। কেরআনুল কারীমে যাকাত প্রদানের খাত নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে। এ খাত ছাড়া অন্য কোথাও যাকাত প্রদান করা জায়েয নেই। আসুন জেনেই যাকাতের খাতগুলো কী কী।

ফকির

ফকির ঐ ব্যক্তি যার নিকট খুবই সামান্য সহায় সম্বল আছে। কোনভাবে জীবনধারণ করতে পারে।

মিসকীন

মিসকিন ঐ ব্যক্তি যার কোন সহায়-সম্বল নেই অথবা যার আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এবং আত্মসম্মানের খাতিরে কারও কাছে হাত পাততে পারে না।

আমিল

যাকাত আদায় ও বিতরণের কর্মচারীদের আমিল বলে। যাকাত সুষ্ঠুভাবে বন্টনের কাজে নিয়োজিত দায়িত্বরত ব্যক্তিদের যাতবীয় খরচ যাকাতের অর্থ থেকেই ব্যয় করা যাবে।

মন জয় করার জন্য

নওমুসলিম অর্থাৎ যারা অন্য ধর্ম ছাড়ার কারণে পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। অভাবে তাদেরকে সাহায্য করে তাদের মন জয় করে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা।

ঋণমুক্তির জন্য

জীবনের মৌলিক বা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া ব্যক্তিদের ঋণমুক্তির জন্য যাকাত প্রদান করা যাবে।

দাসমুক্তি

কৃতদাসের মুক্তির জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। একজন বা কয়েকজন যাকাত দাতা মিলে অর্থ দিয়ে দাসমুক্তির সহযোগিতা করা যেতে পারে।

ফি সাবিলিল্লাহ

ফি সাবিলিল্লাহ বলতে দ্বীনি যেকোনো খাতকেই বুঝিয়েছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।

মুসাফির

মুসাফির অবস্থায় কোন ব্যক্তি বিশেষ কারণে অভাবগ্রস্ত হলে ওই ব্যক্তির বাড়িতে যতই ধন-সম্পদ থাকুক না কেন তাকে যাকাত প্রদান করা যাবে।

লেখক: শিক্ষক, লাবিব একাডেমি বাংলাদেশ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা।