advertisement
আপনি দেখছেন

বিষণ্ণ পৃথিবীতে এবার এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু ঈদ উৎসবের চিরচেনা সেই দৃশ্য বা আমেজ এবার দেখা যাবে না সেটা আগে থেকেই জানা। করোনাকালে ঈদ উদযাপন এবং ধর্মপালন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে কথা হয় ওআইসির বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারাবিক অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফের সঙ্গে।

eid maruf sir

প্রশ্ন: মহামারির সময় ঈদ উৎসব সম্পর্কে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ: মহামারীর সময় প্রথম করণীয় হলো- নিজ অবস্থান থেকে অন্য কোথাও না যাওয়া। হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, ‘কোথাও মহামারি হলে তোমরা সেখানে যেও না। আর তোমার এলাকায় মাহামারি হলে এলাকা ছেড়ো না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবী ক্ষতবিক্ষত-বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ঈদ উদযাপনের চেয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখা জরুরি। ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। আর জীবন বাঁচানো ফরজ। তাই করোনাকালে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে ব্যক্তিগতভাবে নিরবে-নিভৃতে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ঈদ উদযাপনের পরামর্শ দেবো আমরা।

প্রশ্ন: এবারের ঈদের নামাজ মসজিদের পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে শরিয়ত কী বলে?

ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ: ওআইসি থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ সময় রাজধানীর কেন্দ্রিয় মসজিদ ছাড়া আর কোথাও জামাত হবে না। তবে সব মসজিদ থেকে একযোগে আজান চলবে। অন্যসব মুসলিম রাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে তা মানা হচ্ছে না। যেখানে মক্কা-মদিনা পর্যন্ত টোটালি বন্ধ, সেখানে আমাদের আলেমরা বোধহয় অন্যদের চেয়ে ‘একটু বেশিই বুঝছেন’- এ ছাড়া আর কী-ই বা বলার আছে।

প্রশ্ন: ঈদের নামাজের বিষয়ে জানতে চাচ্ছিলাম।

ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ: ঈদের নামাজ তো জুমা কিংবা ফরজ নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেখানে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘরে পড়তে হচ্ছে, জুমার নামাজও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সেখানে ঈদের নামাজের প্রশ্ন কেনো উঠছে? সরকার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আরো গভীর যোগ্যতাসম্পন্ন আলেমদের সমন্বয়ে ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

প্রশ্ন: মানুষ বলছে, মহামারির সময় মসজিদ বন্ধ রাখা ঠিক নয়, কী বলবেন?

ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ: মসজিদ তো মহামারির সময়ই বন্ধ রাখতে হবে। আসলে আমাদের দেশের অধিকাংশ ইমাম বেতন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকে হয়তো মসজিদ, তারাবি, জুমা ঈদের নামাজ বন্ধ রাখার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই আবার ইউটিউব-ফেসবুকে এসে বলছেন, ভাইরাস বলতে কিছু নেই। আপনারা মসজিদে চলে আসেন। আসলে এটি বাড়াবাড়ি।

প্রশ্ন: অনেককেই বলতে শুনি, আল্লাহ করোনা দিলে কে ঠেকাবে, আর আল্লাহ বাঁচালে করোনা কী করবে- এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ: এ দেশের কয়জন মানুষ কোরআন জানে? সূরা নিসায় আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করো।’ সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিও না।’ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘উট বেঁধে আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করো।’ এখন আমি সচেতন হলাম না, কিন্তু আল্লাহ বাঁচাবেন বলে কথার খই ফুটাচ্ছি- এগুলো মূর্খতা। মহামারিতে মারা গেলে শহিদি মর্যাদা পাওয়ার কথা হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ যদি অসচেতন থেকে সেচ্ছায় মহামারিতে মারা যায়, সেটাতো আত্মহত্যার শামিল হবে।

প্রশ্ন: এই পরিস্থিতিতে পাঠকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

ড. সাইয়েদ আবদুল্লাহ আল মারুফ: আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। অতি আবেগি বা ধার্মিকতা আসলে অধর্মেরই পরিচয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে চলুন। বিশেষজ্ঞ আলেমদের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আপাতত বাড়িতেই ধর্মকর্ম করুন। এতেই আপনার সওয়াব রয়েছে। আপনার কোনো অধিকার নেই মসজিদ অথবা বাজারে গিয়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া কিংবা অন্যের দেহে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার।