advertisement
আপনি দেখছেন

ইসলাম যে পাঁচটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে রোজা তার অন্যতম। রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, যখন সুবিধাজনক সময় আসবে তখন অবশ্যই রোজার কাজা আদায় করে নিতে হবে। আসুন জেনে নিই যে ৫ কারণে রোজা না রাখার অনুমতি শরিয়ত সমর্থন করে।

diet in ramadan

১. অসুস্থ হলে

যেহেতু রোজা একটি শারীরিক ইবাদত তাই রোজা পালন করার জন্য শারীরিকভাবে ফিট থাকা জরুরি। রোজার বিধান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অন্য সময়ে রোজার সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ সুরা বাকারাহ, ১৮৪।

২. ভ্রমণে থাকলে

ভ্রমণ যত আরামদায়কই হোক না কেনো কষ্ট হয়ই। সুতরাং যারা ভ্রমণে থাকবে তাদেরও রোজা না রাখার অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। পবিত্র কোরআর আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ ভ্রমণে থাকলে অন্য সময়ে রোজার সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ সুরা বাকারাহ, ১৮৪।

৩. গর্ভবতী নারীর

গর্ভবতী নারী নানান শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়। ফলে এ সময় তাকেও রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নাসায়ি শরিফের হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা গর্ভবতী নারীর জন্য রোজা না রাখার সুযোগ দিয়েছেন।’ নাসায়ি, হাদিস নম্বর ২৩১৫।

৪. বয়স্ক হলে

অতি বয়স্ক ব্যক্তিরাও শারীরিকভাবে আনফিট হলে রোজা রাখতে অসুবিধায় পড়ে যান। ফলে এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এরা পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে পারবে না তাই এরা প্রতি রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে একবেলা পেট ভরে খাইয়ে দেবে। শরিয়তের পরিভাষায় একে ফিদইয়া বলা হয়। বিস্তারিত দেখুন, সুরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৪।

৫. অনিবার্য কারণে

কখনো কখনো এমন কিছু পরিস্থিতি এসে যায় যখন রোজা ভাঙা ছাড়া উপায় থাকে না। যেমন কোনো ব্যক্তিকে এ মুহূর্তেই ওষুধ খাওয়াতে হবে, এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে তার রোজা ভাঙা জায়েজ। রাসুল (সা.) যুদ্ধের ময়দানে সাহাবিদের বলতেন, ‘এখন তোমরা রোজা ভেঙে ফেলো, যাতে করে শত্রুর সামনে তোমরা শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারো।’ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১১২০।