advertisement
আপনি দেখছেন

আল্লাহতা’য়ালা বলেন, “রসুল বললো, ‘হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করে।” (ফুরকান ২৫: ৩০)

ramadan and al quaran

>আল্লাহর রসুল (সা.) কাল কিয়ামতের দিন এই অভিযোগ পেশ করবেন তার উম্মতের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ যারা আল-কুরআনের উপর ঈমান আনেনি এবং একে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের বিরুদ্ধে।

>এই অভিযোগ যারা কুরআনে বিশ্বাসী বলে দাবি করে কিন্তু তাতে উপস্থাপিত জীবনব্যবস্থা বা বিধানসমূহ প্রত্যাখ্যান করে তাদের উপরও।

>এই অভিযোগ তাদেরও বিষয়ে যারা সুবিধামত কুরআনের কিছু অংশকে মানে এবং বাকী অংশকে প্রত্যাখ্যান করে। আল্লাহ বলেন-

“…তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান করো (অর্থাৎ তার প্রতি কুফরী কর)? অতএব, তোমাদের মধ্যে যারাই এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্চনা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত হবে। তারা যা করে আল্লাহ সে সমন্ধে বেখবর নন। তারাই আখিরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন খরিদ করে; সুতরাং তাদের শাস্তি কমানো হবে না এবং তারা কোনো রকম সাহায্যও পাবে না।” (বাকারা ২: ৮৫-৮৬)

>কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করার এই অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেও যারা কুরআনের বিধানকে অপছন্দ করে। আল্লাহ বলেন-

“যখন আমার আয়াত, যা সুস্পষ্ট, তাদের নিকট পাঠ করা হয় তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলেন, ‘অন্য এক কুরআন আন ইহা ছাড়া, অথবা ইহাকে বদলাও।’ বল, নিজ হতে ইহা বদলানো আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।” (সুরা ইউনুস ১০ : ১৫)

>যারা আজ মডারেশনের নামে, আধুনিকতার নামে, যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যের নামে কুরআনের বিকৃত ব্যাখ্যা করছেন তারাও কি এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নন?

>যারা কুরআন হিফয করেছেন অথবা নিয়মিত কুরআন খতম দেন কিন্তু এর বিধান জানা-মানার কোনোই চেষ্টা করেন না। তারাও কি এর মধ্যে পড়েন না? কারণ কুরআনের বিধান জানা, বুঝা, মানা ও বাস্তবায়ন করা আল্লাহ পাক ফরয করেছেন-

“যিনি তোমার জন্য কুরআনকে ফরয করেছেন তিনি তোমাকে অবশ্যই এক উত্তম অবস্থায় উপনীত করবেন।” (কাসাস ২৮: ৮৫)

প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য সুরা ফুরকানের ৩০ নম্বর আয়াত এক কঠিন হুঁশিয়ারি। তাই সকলেই নিজ নিজ অবস্থান মিলিয়ে নেই।

আমরা কিভাবে কুরআন পড়বো

রমজানে সবাই সাধ্যমত কুরআন পড়ছি। আল-কুরআন এক মহাসাগর। অনেক সময়ই কোন দিক থেকে অধ্যয়ন শুরু করবো তা বুঝতে বেগ পেতে হয়। আসুন, সে ব্যাপারে সংক্ষেপে দৃষ্টি দেই।

১. তেলাওয়াত সহীহ করে নেয়া

কুরআন আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে। নামাযে তা আরবীতেই তেলাওয়াত বা পাঠ করা ফরয। আরবী ভাষার উচ্চারণ রীতি ও স্বরবর্ণের ব্যবহারে ব্যতিক্রম আছে। এদিক-ওদিক হলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। তাই প্রথমেই তেলাওয়াত সহীহ করে নিতে সবাই সচেষ্ট হই। শিক্ষিত মানুষদের জন্য ১-৩ মাসেই তা সম্ভব। কারো বেশী লাগলে হতাশ হবেন না। চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। কোনো কোনো অনারব সাহাবীর (যেমন-বেলাল রা.-এর) কিছু কিছু আরবী হরফ উচ্চারণে সমস্যা হতো। রসুলুল্লাহ (সা.) এ রকম মানুষদের জন্য দ্বিগুণ সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছেন। তেলাওয়াতের জন্য নিচের মৌলিক বিষয়গুলির দিকে বেশি নজর রাখবেন-

# হরফের মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল

# মাদ (দীর্ঘ স্বরের ব্যবহার)

# ওয়াকফ (বিরাম চিহ্নের ব্যবহার)

# গুন্না

# ইফফা, ইদগাম, ক্বলক্বলা, ক্ললব প্রভৃতি নিয়মগুলি শিখে মশক বা বারবার পড়ে তেলাওয়াত সহীহ করে নিতে সচেষ্ট হই।

আজকাল নেটে এ রকম বিভিন্ন প্রোগ্রাম পাওয়া যায়। লকডাউনের সময়, ঈদের ছটির সময় এগুলোর সহায়তা নিয়ে এ জরুরী কাজটি এগিয়ে নেই সবাই।

২. অধ্যয়নের সময়

প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলি। যাদের অভ্যাস নেই তারা অল্প অল্প করে শুরু করি। ফজরের পর বা এশার পর। অথবা যার যখন অবসর। একটা নির্দিষ্ট সময় করে নিন কুরআন অধ্যয়নের জন্য। অতঃপর তা শক্তভাবে অনুসরণ করুন। অল্প অল্প করে তার সময় বৃদ্ধি করুন। তাহাজ্জুদের সময় কুরআন অধ্যয়নের আদর্শ সময়, তা কুরআনেই বলা হয়েছে। সে অভ্যাস করতে চেষ্টা করি সবাই। তার আগ পর্যন্ত নিজের সুবিধা মত নিরিবিলি একটা সময় প্রাত্যহিক কুরআন অধ্যয়নের জন্য বেছে নেই এবং তা নিয়মিত মেনে চলি। কখনো কখনো তাতে ছেদ পড়তে পারে। হতাশ হবেন না। মনে করবেন না যে, আপনাকে দিয়ে হবে না। এগুলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা। অতএন, আবার শুরু করুন। অভ্যাস হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

৩. দাগিয়ে দাগিয়ে নোট করে করে পাঠ

কুরআন পাঠ করুন দাগিয়ে দাগিয়ে, নোট করে করে। বিভিন্ন বর্ণের মার্কার পাওয়া যায় বাজারে। তা থেকে পছন্দ মতো এক বা একাধিক সংগ্রহ করে নিন। নিজের এক কপি অর্থসহ কুরআন আলাদা করে নিন। গুরুত্বপূর্ণ আয়াত/আয়াতের অংশ মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখুন। আপনার পছন্দ ও গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন রংয়ের মার্কার ব্যবহার করুন। আয়াতের পাশে খালি স্থানে বিষয়বস্তু লিখে অনুরূপ আয়াত বা ব্যাখ্যামূলক আয়াত, সুরার নাম ও নম্বরসহ লিখে রাখুন ভবিষ্যতের রেফারেন্সের জন্য। নোট খাতাও ব্যবহার করতে পারেন। পছন্দের আয়াত, বিষয়বস্তু অনুযায়ী লিখে রাখুন। কোনো প্রশ্ন জাগলে তাও নোট করুন। দাগিয়ে রাখুন। কুরআনই এর জবাব দিবে আপনাকে। অথবা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন।

৪. অর্থসহ পড়ে ফেলুন

কুরআনের নতুন পাঠক প্রথমেই এক বা একাধিক বার কুরআন অর্থসহ পড়ে ফেলুন। এ এক বিশাল নেয়ামত। কুরআনে কি আছে কি নেই তার একটা মোটামোটি ধারণা পেয়ে যাবেন। বর্তমান বিভ্রান্তির জগতে এটা আপনাকে বেশ সাহায্য করবে।

৫. তাফসীরসহ পাঠ

কুরআনের যথাযথ জ্ঞান লাভের জন্য তাফসীরসহ অধ্যয়ন অরিহার্য। আমাদের দেশে বেশ কিছু ভাল তাফসীর বাংলা ভাষায় অনুবাদ ও লেখা হয়েছে। যেমন- তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে উসমানী ইত্যাদি। এ ছাড়া তাফহীমুল কুরআন, ফী যিলালিল কুরআনও দেখতে পারেন। আরো কিছু তাফসীর- গোটা কুরআনের বা এর অংশ বিশেষের পাওয়া যায়। ইংরেজী ভাষায় যারা সাবলীল তাদের জন্য The Holy Quran, The Nobel Quran প্রভৃতি রয়েছে। প্রতিটি তাফসীরই অনন্য। খটকা লাগলে ক্রস চেক করুন। অনলাইনে এসব তাফসীর প্রায় সবগুলি পাওয়া যায়। তার থেকেও সহায়তা নিতে পারেন। তাফসীর অধ্যয়নের ক্ষেত্রেও দাগিয়ে ও নোট করে পড়ার রীতি গ্রহণ করুন। ধৈর্য হারাবেন না। অধ্যয়ন যথেষ্ট ধৈর্য দাবি করে। একবারে বেশি না পড়ে যতটুকু পারেন ততটুকুই পড়ুন। অনাগ্রহ বোধ করলে রেখে দিন। এ বিষয়ে দুটি কথা:

>আল-কুরআনের শুরু থেকে পাঠ শুরু করুন।

>ধারাবাহিকভাবে অধ্যয়ন করুন।

৬. সীরাত অধ্যয়ন

আল-কুরআন নাযিল হয়েছে নবী (সা.)-এর উপর এবং এর বহু বিষয়ের সাথে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কুরআন বুঝার জন্য রসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী জানা দরকার। তিনি কুরআনের প্রথম বাস্তবায়ক। কুরআনের ব্যাখ্যা আল্লাহতা’য়ালা তাকেই শিক্ষা দিয়েছেন। (সুরা কিয়ামাহ ৭৫: ১৬-১৯)।

>এক্ষেত্রে সীরাতে ইবনে হিশাম খুবই উপযোগী। এর সংক্ষিপ্তসার বাংল অনুবাদ হয়েছে। যা সহজপাঠ্য। তা পড়ে নিন অল্প সময়ে। অনেক আয়াতের শানে নুযুল এতে একত্রে পেয়ে যাবেন।

>আধুনিক সীরাত গ্রন্থগুলির মধ্যে আর-রাহিতুল মাখতুম বিখ্যাত ও যথাযথ।

>এ ছাড়া আরো কিছু ভাল সীরাতগ্রন্থ পাওয়া যায়। কুরআন বুঝার জন্য নিয়মিত সীরাত গ্রন্থ অধ্যয়ন জরুরী।

>নবী (সা.)-এর সীরাত বা জীবনীর সাথে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবনী কুরআন অধ্যয়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। এক্ষেত্রে নিম্ন লিখিত গ্রন্থগুলো দেখা যায়-

# আসহাবে রসুলের জীবন কথা, মু. আব্দুল মাবুদ।

# ৪ খলিফার জীবনী- এমদাদিয়া লাইব্রেরী বা সিয়ান প্রকাশনা

# খুলাফায়ে রাশেদুন – মু: আব্দুর রহীম

# সাহাবীদের বিপ্লবী জীবন- আব্দুর রহমান রাফাত পাশা

আরো বেশ কিছু ভাল গ্রন্থ বাজারে রয়েছে। অল্প অল্প করে পাঠ করলে কুরআন বুঝায় তা সহায়ক হবে। যেমন- কাব ইবনে মালিকের (রা.) জীবনী পড়ে আপনি সুরা তাওবার ১০৬ ও ১১৮ নং আয়াতের তাফসীর জেনে যাবেন। মা আয়েশা (রা.)-এর জীবনী পাঠে- সুরা নুরের প্রথম তিন রুকুর বিস্তারিত তাফসীর পেয়ে যাবেন। এভাবে মিলিয়ে পাঠ করলে কুরআন অধ্যয়ন যথার্থ ও কার্যকর হবে ইনশাল্লাহ।

৭. পূর্ব ধারণা ঝেড়ে ফেলুন

কুরআন অধ্যয়নের শুরুতে কুরআন বা ইসলাম সম্পর্কে আপনার পূর্ব ধারণাগুলি ঝেড়ে ফেলুন। না হয় অন্তত: একপাশে সরিয়ে রাখুন। তাফহীমুল কুরআনের ভূমিকা বা খুররম জাহ মুরাদের কুরআন অধ্যয়ন সহায়িকা বইখানি এ ব্যাপারে এবং কুরআন অধ্যয়নে প্রাথমিক গাইডলাইন প্রদানে আপনাকে সহায়তা করবে।

৮. কুরআন ব্যাখ্যার পদ্ধতি

নিজের মতের পক্ষে দলিল খোঁজার জন্য কুরআন পড়ে খুব লাভ হবে না। বরং কোনো ব্যাপারে কুরআন কি বলে সে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করুন। কুরআন ব্যাখ্যায় নিজের বা অন্যের মনগড়া ব্যাখ্যা নিবেন না। কুরআন ব্যাখ্যার মূলনীতি হল-

>কুরআনের প্রথম ব্যাখ্যা কুরআন নিজে

>অতঃপর নবী (সা.)-এর সহীহ হাদীস। কারণ এর ব্যাখ্যা আল্লাহই তাকে শিক্ষা দিয়েছেন।

>সাহাবায়ে কেরাম বিশেষত: খুলাফায়ে রাশেদীনের ঐকমত্যের মধ্যে ব্যাখ্যা খুঁজতে হবে। কারণ রসুল (সা.) নিজেই বলেছেন, তার সুন্নাহর মধ্যে কোনো বিষয় না পেলে খুলাফায়ে রাশেদীনের ব্যাখ্যায় তা দেখতে। (আবু দাউদ)

>অতঃপর নির্ভরযোগ্য তাফসীরকারকদের ব্যাখ্যা যা কুরআন ব্যাখ্যায় মূলনীতি বা উপরোক্ত তিন সূত্রের বিরোধী নয়।

রসুল (সা.) বলেছেন,

আল-কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যার পরিণতি জাহান্নাম। আমাদের দেশে এ সমস্যা প্রকট। অধিকাংশ ব্যক্তি ও দলের নিজের মনমতো কুরআন ব্যাখ্যা করা, সুবিধামতো আয়াত কোট করা এবং নিজের মত বা দলীয় নীতির সাথে মিলে- এমন সব আয়াত ও বিষয়ের উপর জোর দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। অথচ আল-কুরআনের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যাদান এবং তাতে নিজ হতে কোনো বিষয় সংযোজনের ব্যাপারে খোদ রসুল (সা.)-কেই কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। (সুরা হাক্কা ৬৯: ৪৪-৪৭)। বস্তুত: রসুল (সা.)-এর নিকট থেকে এমন কিছু কল্পনাই করা যায় না। এ হুঁশিয়ারি মূলত: উম্মতের দুর্বলচেতা লোকদের লক্ষ্য করেই। অতএব, এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করি।

৯. কুরআনের দারস বা হালাকায় অংশগ্র্রহণ

আল্লাহ বলেন, “তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর।” (আম্বিয়া ২১: ৭)

কুরআন অধ্যয়নের জন্য কুরআনের দারসে অংশগ্রহণ খুবই উপযোগী পদ্ধতি। বরং তা একান্ত জরুরী। একাকী কুরআন শিক্ষা সম্ভব নয়। তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এজন্য একজন যোগ্য আলিমের কুরআনের দারস বা হালাকায়ে অংশগ্রহণ করা দরকার। এক্ষেত্রে যোগ্য আলিম বাছাই করা জরুরী। যিনি কুরআন জানেন, নিজে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করেন, উগ্রপন্থী বা চরমপন্থী নন- এমন আলিমের সহায়তা নিন। দুঃখজনকভাবে এদেশের অধিকাংশ আলেমরা কুরআনের ধারাবাহিক দারস করেন না। এর কারণ অজানা। তাফসীরের নাম করে যা হয়- তা বাস্তবতার নিরিখে কতটুকু কার্যকর তা আয়োজকদের মূল্যায়ন করা জরুরী। রাতভর বা ৩, ৭, ১০ বা ১৫ দিনব্যাপী তাফসীর মাহফিলে অংশগ্রহণের পর যদি অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মাহফিলের আলোচ্য বিষয় বলতেই না পারে, তবে তার কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠা অস্বাভাবিক নয়। বরং নিরিবিলি, ধারাবাহিক, সংক্ষিপ্ত ও নিয়মিত ছোট ছোট দারসের মাহফিল বেশি কার্যকর।

১০. কুরআনের সাথে পথ চলা

কুরআন নাযিল হয়েছে মানার জন্য। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই কুরআন পড়তে হবে। সাহাবীদের নীতিই ছিল তারা দশ দশটা করে আয়াত শিখে তার উপর আমল শুরু করতেন। তারপর পরবর্তী পাঠ গ্রহণ করতেন। সেইভাবেই কুরআন পড়তে হবে। কুরআনের শিক্ষার সাথে নিজেকে, নিজের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আদর্শ, ব্যক্তিত্ব, সংঘ, জীবনবোধ, অভ্যাস, পারিপার্শ্বিক জগতকে মিলাতে হবে। সেই আলোকে নিজের ঈমান ও মূল্যবোধ, আমল-আখলাক-চরিত্র, আচার-অভ্যাস, কথা-বার্তা, চিন্তা-ধারা, পছন্দ-অপছন্দ, লেনদেন, সম্পর্ক ও আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা, সমর্থন ও সংগঠন, এবং সময় ও সম্পদের ব্যবহারকে গঠন করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে। একবারে কোনো কিছু হয় না। ব্যর্থতায় হতাশ হবেন না। কেন পারছেন না খোলা মনে চিন্তা করুন। ত্রুটি কোথায়? আপনার নিজের গাফিলতি হলে তওবা-ইস্তেগফার জোরদার করুন। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওফীক চান। সমস্যা অন্যের হলে তাকে সংশোধনে সহায়তা করুন। তার জন্য দোয়া করুন। হাল ছেড়ে দিবেন না। বন্ধুত্ব ও সংঘে সমস্যা হলে তা কতদিন, কতদূর বজায় রাখবেন, ভেবে দেখুন। উন্নতির সম্ভাবনা না থাকলে সেগুলি বর্জন করুন। কারণ তারা আপনাকেই পিছিয়ে দিবে। পিছনে টেনে রাখবে।

১১. কুরআনের সাথীদের বন্ধু বানান

আশপাশে তাকিয়ে দেখুন, আপনার মতো আরো অনেক ভাই-বোন আছেন, যারা কুরআনের সাথে পথ চলার চেষ্টা করছেন। তাদের বন্ধু বানিয়ে নিন। তারা কিন্তু কেউই ‘ইনসানে কামেল’ নন, perfect নন। আপনিও নন। তাদের ঈমান ও প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বড় Asset বা মূলধন। তাদের সাথী হয়ে যান। বেশি ভুল ধরবেন না। আলাপ করুন, আলোচনা করুন, দেখবেন অনেক কিছু হয়তো আপনিই ভুল জানেন। তখন আবার জিদ ধরবেন না। নিজেকেই পাল্টে নিন। আপনি কুরআনের সাথী, পরিবর্তনের জন্যই তো কুরআনকে সাথী বানিয়েছেন। তার সাথে পথ চলে জান্নাতী হতে চান। সেই টার্গেট যদি সত্যিই করে থাকেন তাহলে নিজের ভুলগুলো বুঝার পার শুধরে নিন। জান্নাতে পৌঁছে গেলে এসব আর কিছুই মনে হবে না, মনে থাকবে না।

কুরআন অধ্যয়নে সাথী খুব জরুরী

# প্রতিযোগিতার জন্য। হ্যাঁ নেক কাজে প্রতিযোগিতা কোনো খারাপ কিছু নয়। বরং এর মধ্যেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে-

“ফাসতাবিকুল খাইরাত” অর্থাৎ তোমরা নেক কাজে, ভালো কাজে প্রতিযোগিতা কর। (বাকারা ২: ১৪৮)

# ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মুমিন মুমিনের আয়না।” আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কাপড়ের ময়লা, ত্রুটি, চেহারার অগোছালো ভাব দেখে শুধরে নেই আমরা তেমনি আরেক মুমিনকে দেখে মুমিন নিজের ভুলগুলি বুঝতে শুধরে নিতে পারে।

# দুর্বলতার মুহূর্তে সাহস দেয়া, উৎসাহ দেয়া। কুরআনের সাথে লেগে থাকার জন্য সাথী খুব জরুরী। শয়তান কিন্তু আপনার উপর বহুগুণ বেশি কাজ করছে এখন। কারণ তার একজন ক্লায়েন্ট ছুটে যাচ্ছে। আমরা সবাই তার Potential Client. সে লেগে আছে জোরদার। একা তার বিরুদ্ধে পারা কঠিন। এজন্য কুরআনী সাথীদের কদর করুন। এক সাথে মিলে পথ চলুন।